পেঁয়াজের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুপারিশ, কিছু জানে না জেলা প্রশাসন

111111

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ১৫ জনকে দায়ী করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে কক্সবাজারের ১২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা। তবে সেই সুপারিশের কথা জানেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পর থেকে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেন এবং কী কারণে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করছি আমরাও। কিন্তু চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সিন্ডিকেটের তালিকার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমরা অবহিত নই। এধরনের কোনও সুপারিশও আমাদের হাতে পৌঁছেনি। অবশ্য বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।’

মূল্য বৃদ্ধির পক্ষে সাফাই গাইলেন আমদানিকারকরা

মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানির পরও মূল্য বৃদ্দির পেছনে সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হলেও আমদানিকারকরা তা সমনে করছেন না।

টেকনাফ স্থল বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলছেন, মিয়ানমারে পেঁয়াজের শেষ মৌসুম। এখন ভালো পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসছে তার দাম বেশি এবং অধিকাংশই পচা। তাই চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে পেঁয়াজ।

কক্সবাজার জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. শাহাজাহান আলী বলেন, ‘কক্সবাজারের শহর ও জেলার বাজার গুলোতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা নিতে পারছি না। কারণ ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে পেঁয়াজের যে চালান নিয়ে আসছেন, এতে ৮৫-৮৭ টাকা কেজিতে পাইকারির রসিদ রয়েছে। কাজেই কোনও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে চট্টগ্রামের সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, ভারত থেকে রফতানি বন্ধের পর পেঁয়াজ আমদানির বিকল্প দেশ এখন মিয়ানমার। মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজেই এখন পূরণ হচ্ছে চাহিদা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে একটি অসাধু চক্র। তাদের কারসাজিতে ৪২ টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকায়।

আমদানিকারক, আড়তদার ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান মিলে ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম।

আমদানি করা পেঁয়াজের চারটি চালানের এলসির কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রবিবার (৩ নভেম্বর) সোহরাব এন্টারপ্রাইজ ১০৩ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। এই চালানটি ৪৯ হাজার ৯০০ ডলার দিয়ে আমদানি করা হয়। যেখানে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৪২ টাকা। অথচ এই পেঁয়াজ তারা পাইকারিতে প্রতিকেজি বিক্রি করেছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

আরও খবর: ৪২ টাকার পেঁয়াজ পাইকারিতে ৯০, নেপথ্যে সিন্ডিকেট