স্বস্তিতে কক্সবাজারের পর্যটকরা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকরা কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে তারা শনিবার (৯ নভেম্বর) দিনভর আতঙ্কে ছিলেন। বিশেষ করে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে বেশি আতঙ্ক ছিল। তবে তারা এখন স্বস্তিতে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামীকাল ফিরতে পারেন আটকে পড়া পর্যটকরা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ ও সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান বলেন, কক্সবাজার এখন আশঙ্কামুক্ত। অন্যান্য সমুদ্র বন্দরের মতো এখানে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ ফুট থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২ থেকে ৩ দিন কক্সবাজার ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় হালকা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে এখনও জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগামীকাল সোমবার সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরতে পারবেন। একইভাবে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কোনও ধরনের সমস্যা হয়নি। তাদের কক্সবাজারের যেকোনও এলাকায় ঘুরতে বাধা নেই। তবে সাগরে গোসল করার সময় বিপদসীমার মধ্যে না যেতে মাইকিং করে নিষেধ করা হচ্ছে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান নুর আহমদ জানিয়েছেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আমরা দ্বীপবাসী খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। এখন সেই উদ্বেগ কেটে গেছে। ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে পড়ায় দ্বীপবাসী স্বস্তিতে। শুধু দ্বীপবাসী নয়, এই দ্বীপে আটকে পড়া অন্তত ১২ শ’ পর্যটক ছিল খুবই আতঙ্কে। আমরা তাদের সেই আতঙ্ক দূর করার জন্য সর্বাত্মক কাজ করেছি। হোটেল-মোটেলে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছি।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সোমবার সকালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এতে পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ফিরতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে এসব পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে সেন্টমার্টিনে পাচঁটিসহ বিভিন্ন হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।’
কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার আব্দুল আল-মামুন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও রবিবার সারাদিন জাহাজ উঠা-নামা স্বাভাবিক ছিল। কক্সবাজার বিমানবন্দরে কোনও ধরনের সিডিউল পরিবর্তন হয়নি। সবকিছু ছিল স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় গত তিন দিন ধরে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়েছে ১২ শ’র বেশি পর্যটক।