বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের সমন্বয় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, সকালে বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় টেকনাফ থেকে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছাড়ে। আবার এসব জাহাজ ফেরার সময় আটকাপড়া পর্যটকদের নিয়ে আসে।
কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় কক্সবাজারের উপকূলে স্থানীয় সর্তক সংকেত উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। নাফ নদ ও সমুদ্র শান্ত আছে। ফলে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানকে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সোমবার সকালে টেকনাফ দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিএর অনুমতি নিয়ে ফরহান, আটলান্টিক ক্রুজ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন কিছু লোকজন নিয়ে টেকনাফ দমদমিয়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশে জাহাজগুলো ছেড়ে যায়। একই দিন সন্ধ্যায় এসব জাহাজে করে আটকাপড়া পর্যটকরা ফিরে আসে।
তিন দিন আটকে থাকার পর আজ ফিরে আসা পর্যটকদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৬০ জনের একটি দলের সঙ্গে। এই দলের নেতা উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একটু ভয়ে ছিলাম। তবে ছাত্রদের নিয়ে ফিরে এসেছি এটা অনেক বড় বিষয়। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন খুবই অপরিষ্কার ছিল। ফলে সবাইকে নিয়ে একদিন বিচ পরিষ্কার করছি।’
ঢাকা মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন অন্তরা নামে এক নারী। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো দ্বীপে এসেছিলাম। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে গত তিন দিন আটকে ছিলাম। সন্তানদের নিয়ে অনেক টেনশন করেছিলাম। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকদের ফেরত আনা হয়েছে। তারা সবাই ভালো আছেন। অনেকে নিজ নিজ বাড়ির পথে রওনাও দিয়েছেন। আসলে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। অবশেষে পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন স্বস্তিতে আছি।’