রংপুরের মিঠাপুকুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা মেরে ৬ যাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার শুরু হয়েছে। এই মামলায় জামায়াত-শিবিরের ১৩২ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কামরুজ্জামানের আদালতে মামলার বাদী মিঠাপুকুর থানার এস আই আব্দুর রাজ্জাকের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়।
সাক্ষী ও জেরা শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আগামী ১২ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বাদী এস আই আব্দুর রাজ্জাক আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বাসে পেট্রলবোমা মেরে ছয় যাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন। সাক্ষ্য দেওয়ার পর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দুই ঘণ্টা ধরে মামলার বাদিকে জেরা করেন।
এ ব্যাপারে সরকার পক্ষের আইনজীবী পিপি আব্দুল মালেক অ্যাডভোকেট জানান, বাদিসহ পাঁচ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য এসেছিল। আসামি পক্ষ বাদির সাক্ষ্য ও জেরা শেষে সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি রাখার আবেদন জানান। বিচারক আসামি পক্ষের আবেদনের কারণে আগামী ১২ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
পিপি জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বাদী তার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মামলার অভিযোগ পুরোপুরি আদালতে বর্ণনা দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে মামলার বিচার ঠিকমতো এগিয়ে চলেছে। তারা ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি রাতে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন এলাকায় কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ঢাকাগামী নাইট কোচ খলিল পরিবহনে জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীরা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং ছয় যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়া কমপক্ষে ২৫ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হন।
এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে ১৩২ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা কারাগারে আটক আছেন। পলাতক রয়েছেন ৮০ জন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হয়েছে।
/জেবি/ এসএস/