১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয় মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। মাত্র ৬ কার্য দিবসে শেষ হলো মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম।
আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে সর্বশেষ সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক তারেক মাসুদ ও সাঈদের লাশ বহনকারী কোতোয়ালী থানার কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেন।
হত্যা মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া। আদালত আগামী রবিবার মামলার যুক্তিতর্ক ও আসামি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছেন বলেও জানান পিপি।
চলতি বছরের ১১ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রায়নগর থেকে স্কুলছাত্র আবু সাঈদকে (৯) অপহরণ করা হয়। এরপর পুলিশ ১৩ মার্চ রাতে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুলের কুমারপাড়ার, ঝর্ণারপাড়, সবুজ-৩৭ নং বাসার চিলেকোঠা থেকে সাঈদের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার কনস্টেবল এবাদুর, র্যাবের সোর্স গেদা ও ওলামা লীগ নেতা রাকিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তিনজনই খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে এ মামলার অপর আসামি ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মাছুম পলাতক ছিলেন। এ ঘটনায় সাঈদের বাবা আব্দুল মতিন বাদি হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই মামলায় সিলেট মহানগর হাকিম প্রথম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন)আবদুল আহাদ চৌধুরী। চার্জশিটে এই ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ৭ অক্টোবর চার্জশিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
২৯ অক্টোবর সিলেটের মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাহেদুল করিম চার্জশিট আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তর করেন। ৮ নভেম্বর ওই আদালত মাছুমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ও মালামাল ক্রোকের আদেশ দেন। আদেশের একদিনের মাথায় (৯ নভেম্বর) পলাতক আসামি মাছুম সিলেট আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয় মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। মাত্র ৬ কার্য দিবসে শেষ হলো মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম।
নিহত আবু সাঈদ রায়নগর হযরত শাহ মীর (র.) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ও একই এলাকার দর্জিবন্দ বসুন্ধরা ৭৪ নম্বর বাসার আব্দুল মতিনের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এড়ালিয়া বাজারের খশিলা এলাকায়।
/জেবি/এমআর/