বামুনজি বিলে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ১০ গ্রাম

৪৪

অর্ধশতাধিক শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে জামালপুরের বামুনজি বিলে প্রায় একশ’ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে ১০ গ্রামের ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ পরিবেশ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতার কারণে প্রভাবশালীরা বিল থেকে অপরিকল্পিতভাবে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনও প্রতিকার পাননি তারা।

এই এলাকার সুলতান নগর গ্রামের রমজান আলী (৪৫), রঘুনাপুর দিঘুলী গ্রামের হাফিজুর রহমান (৫৫), আলী মুন্সি (৬০), পূর্বপাড় দিঘুলী গ্রামের শিল্পী আক্তার (৪০), গোপীনাথপুর গ্রামের মঞ্জু শেখ (৫৫) ও সুরুজ মিয়া (৬০)  জানান, ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষা করতে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের লোকজনের হাতে তাদেরকে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।তবে জামালপুরের জেলা প্রশাসক বলছেন, বালু উত্তোলনে জনগণের যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জামালপুর জেলা সদরের দিঘপাইত ও তিতপল্লা ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রাম নিয়ে ৪৩৬ একর জমির ওপরে গড়ে তোলা হচ্ছে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল। ২০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বর্তমানে ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার এমএম বিল্ডার্স নিয়ম-নীতির কোনও তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় বামুনজি বিল ও বংশী খালে অর্ধশতাধিক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। এসব ড্রেজার দিয়ে গত দুই বছর যাবত রাত-দিন বালু উত্তোলন করায় বিলে ৬০ থেকে ১২০ ফুট গভীর বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমাগতভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে সুলতান নগর, রঘুনাপুর দিঘুলী, পূর্বপাড় দিঘুলী ও গোপীনাথপুরসহ কমপক্ষে ১০ গ্রামের ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর ও রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে এঅঞ্চলের পরিবেশও। 

গ্রামবাসী নিজেদের ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর রক্ষায় বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের লোকজনের হাতে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এপ্রসঙ্গে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘বিলটি লিজ নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।’

অনেকগুলো ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে জামালপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল হক বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি জনগণের যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।