‘মজা লস’ নিয়ে যত কথা: অ্যাডমিন দুই দিনের রিমান্ডে

moja lossssss‘মজা লস’ পেইজ-এর অ্যাডমিন রেফায়েত আহমেদকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম রিমান্ডের আদেশ মঞ্জুর করেন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মুত্তাকিন এ তথ্য জানান।
ভাটারা থানার ওসি বলেন, আজই রেফায়েত আহমেদকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে, এখনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। আজ রাত থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে। জিজ্ঞাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই আবদুর রবকে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে মজা লস পেইজের অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ প্রসঙ্গে র‌্যাব জানায়, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মজা লস পেইজ যাত্রা শুরু করে ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। শুরু থেকে এটি নিছক একটি ফান পেইজ হিসেবে পরিচিত ছিল। সামাজিক অসঙ্গতি, দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে পেইজটিতে পোস্ট দেওয়া হতো। ছবিতে হাস্যরসাত্মক ক্যাপশন দিয়ে 'ট্রল' করা হতো। এ কারণে অল্পসময়ের মধ্যে পেইজটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে মজা লস পেইজের সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী যুক্ত রয়েছেন।
মজা লস প্রথম বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে ২০১২ সালের নভেম্বরে। চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলকে ব্যঙ্গ করে তারা একটি ফেসবুক গেম তৈরি করে । অ্যাংরি বার্ডের অনুকরণে গেমটির নাম দেওয়া হয় 'অ্যাংরি জলিল'।  এই গেমটি ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, এটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। পেইজটি অনন্ত জলিলকে নিয়ে অসংখ্য বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দিলেও গেমটিকে অনেক সমালোচক 'বাড়াবাড়ি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। 

মজা লস-এর আরেকটি প্রিয় চরিত্র ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়েও পেইজটিতে নিয়মিত পোস্ট দেওয়া হতো। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতেও মজা লস সোচ্চার ছিল। যেমন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর মজা লস তাকে নিয়ে প্রতিবাদী পোস্ট দেয়। হরতাল, সহিংসতা, সন্ত্রাসসহ প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের বিবাদও নিয়ে মজা লস 'মজা' করত। একারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরাগের বিষয় হতে  হতে শুরু করে পেইজটি। 

২০১৩ সালে মজা লস ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক পোস্ট এবং ভিডিও প্রকাশ শুরু করে। পেইজটি দেশের চলমান রাজনীতির কঠোর সমালোচক ছিল। পেইজ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে মজার ভিডিও কিংবা ট্রল প্রকাশ করতেন। 

২০১৪ সালে পেইজটি একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মেয়ে রিকশায় করে যাচ্ছে। সেই রিকশা থামিয়ে একটি ছেলে তাকে থাপ্পড় মারছে। মজা লস পেইজ এই ভিডিওটি প্রকাশ করে নির্যাতনকারী ছেলেটিকে ধরিয়ে দেওয়ার আহবান জানায়। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে, নির্যাতনকারী ছেলেটিকে শনাক্ত করা হয়।

চলতি বছরের পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনায় মজা লস শক্ত অবস্থান নেয়। সিসিটিভির ফুটেজ ঘেঁটে তারা কয়েক জনের ছবি প্রকাশ করে দেয়। 

চলতি বছরে গুলশানে একটি গাড়ি দুর্ঘটনা কেন্দ্র করে মজা লস পুনরায় আলোচনার শীর্ষে চলে আসে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বিএম ইকবালের ভাতিজা ফারিজের কিছু ছবিও   প্রকাশ করে এই পেইজ। 

মজার বাইরে এই রকম কিছু সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ায় মজা লসের প্রশংসার পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ট্রল করা তার মধ্যে অন্যতম।  সরকারি নির্দেশে ফেসবুক বন্ধ থাকার সময়ও মজা লস পেইজটি সক্রিয় ছিল। তারা এ সময় তারানা হালিমকে নিয়ে ট্রল করে। 

মজা লসের অ্যাডমিন 'চৌধুরী সাহেব' হিসেবে পরিচিত। তার আসল পরিচয় নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে চৌধুরী সাহেব প্রথম বারের মতো টিভি পর্দায় উপস্থিত হন। তবে, পুরো শোজুড়ে তার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। 

চলতি বছরের শুরুর দিকে চৌধুরী সাহেবের ছবিসহ পরিচায় অন লাইনে ফাঁস হয়ে যায়। তখনই জানা যায়, চৌধুরী সাহেব নামের আড়ালে আসলে রয়েছেন এই রেফায়েত আহমেদ। এ নিয়েও ওই সময় অনলাইনে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। 

/এআরআর/এইআর/এমএনএইচ/