কাঁচামালের দাম বাড়তে থাকলে সরকারের পক্ষে ওষুধের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেছেন, ‘সরকার সব সময় ওষুধের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে। তবে সব সময় তা সম্ভব হয় না। ৯৫ ভাগ ওষুধের দামই স্থিতিশীল ছিল। তবে এভাবে কাঁচামালের দাম বাড়তে থাকলে সরকারের পক্ষে ওষুধের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব না।’
সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার এপিআই ওষুধ শিল্প পার্কে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘একটি এপিআই ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য অনেকদিন ধরে বলে আসছি। আমরা ৯৮ ভাগ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করি। এটা আমাদের একটা বড় শক্তি। কিন্তু ওষুধের কাঁচামালের ৯৫ ভাগ আমদানি করি। এদিক থেকে আমরা পেছনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজার অত বড় নয়। তাই বাইরে থেকে ওষুধের কাঁচামাল আমদানি করাই লাভজনক। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এপিআই ম্যানুফেকচারার। তবে কিছুদিন আগে পরিবেশ রক্ষার ইস্যুতে আড়াই হাজারের মতো এপিআই বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য কাঁচামালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। যেটা ছিল ১২০-১২৫ ডলার, সেটা ৩০০ ডলার হয়ে গেছে। চাহিদা বেশি থাকলে দাম তো বাড়বেই। কাজেই যত দ্রুত আমরা এপিআই উৎপাদনে যাব, ততই ভালো।’
নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘বাংলাদেশ আগে সস্তায় ওষুধ তৈরি করতে পারত। কিন্তু এখন তা আর থাকবে না। প্রত্যেক জিনিসের দাম যখন বাড়ে, তখন ওষুধের দাম আর কত কমিয়ে রাখতে পারব? অন্যদিকে ডলারের দামও বেড়ে গেছে। সেজন্য কাঁচামালের দামও বেড়েছে। আমরা পেটেন্টেড ওষুধ বানাতে পারছি না। তিন বছরের এক্সটেনশনসহ ২০২৭ সাল পর্যন্ত আমরা পেটেন্টমুক্ত থাকতে পারব। তবে এক্সটেনশন নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২৪ সালেই আমাদের পেটেন্টেড ওষুধ বানাতে হবে। ২৭টি কোম্পানি এখানে ওষুধের কাঁচামাল তৈরি করবে। এখানে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ তৈরি করে লাভ নেই। যেসব ওষুধের দাম বেশি, সেসব ওষুধ তৈরি করার অনুরোধ করব।’
তিনি বলেন, ‘যারা (যে সব দেশ) এপিআই করে, তারা নিজেরাই ৬০ ভাগ কনজিউম করে। আর আমরা যদি রফতানি করতে চাই, করতে পারি। এপিআই পার্ক হওয়ার পর ওষুধ রফতানি না করার কোনও কারণ দেখি না। তবে কিছু সমস্যা আছে। কারণ আমাদের এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি সাবজেক্ট আছে কিন্তু এখনও ওষুধের কাঁচামাল তৈরির কোনও স্কুল নেই।’