রংপুর জেলা ছাত্র অধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জানান, ডাকসু ভিপি নুরসহ ছাত্র অধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন তারা। প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এসময় তারা ডাকসু ভিপিসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার জন্য ছাত্রলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের নেতাকর্মীদের দায়ী করে তাদের গ্রেফতারসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করার জন্য সমবেত হন। এসময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ পরিচয়দানকারী কয়েকজন যুবক এসে সমাবেশে হুমকি দিতে শুরু করে বলে, কাউকে ‘ভারতের দালাল’ বলা যাবে না এবং সরকারবিরোধী কোনও বক্তব্য দেওয়া যাবে না। ছাত্র অধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই যুবকদের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে ছাত্র অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের হাতে থাকা ব্যানার কেড়ে নিয়ে তাদের প্রেস ক্লাব এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য গালাগালি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা মানববন্ধন পণ্ড করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে মানববন্ধনকারীরা প্রেসক্লাব এলাকা ছেড়ে চলে যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্র অধিকার আন্দোলন রংপুর বিভাগীয় সমন্ময়কারী হানিফ খান বলেন, ‘আমরা ডাকসুর ভিপিসহ আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করতে চাইলেও পারলাম না। আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে গায়ের জোরে আমাদের ওপর হামলা করে সরিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু এভাবে আর কতদিন গায়ের জোরে এসব চলবে? একদিন দেশের মানুষ এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তখন তারা পালানোর রাস্তা খুঁজে পাবে না।’
এদিকে মানববন্ধন পণ্ড হওয়ার এক ঘণ্টা পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করে আবার চলে যায়। এ ব্যাপারে দায়িত্বরত এস আই মমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ছাত্র অধিকার আন্দোলনের বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের কোনও নেতাকর্মী জড়িত নয়। তাদের কেউ সেখানে যায়নি। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে আমাদের অগোচরে এসব করে, তাহলে কী করার আছে? অনেকেই ইদানিং ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করছে। এরপরও পুরো বিষয়টি আমরা দেখছি।’
এদিকে হামলায় নেতৃত্বদানকারী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের রংপুর বিভাগীয় সমন্ময়ক আল আমিন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ওরা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড করায় আমরা নিষেধ করেছি মাত্র।’
আরও পড়ুন- ভিপি নুরের ওপর ফের হামলা