পরিবেশদূষণ রোধে ১২ ইটভাটা উচ্ছেদ

গাজীপুরে ইটভাটা উচ্ছেদপরিবেশদূষণ রোধে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৫টি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাগলা নদী তীরবর্তী ৭টি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে ইটভাটগুলো উচ্ছেদ করা হয়। অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব ইটভাটার কয়েকটিকে জরিমানাও করা হয়েছে।


বাংলা ট্রিবিউনের গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, কাপাসিয়ায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৫টি ইটভাটাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় আদালত ওই ইটভাটাগুলোকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন এবং বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফোরদৌস ও পার্শিয়া সুলতানা প্রিয়া এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, পরিবেশদূষণ-বিরোধী অভিযান ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী জান্নাতুল ফোরদৌস ও পার্শিয়া সুলতানা প্রিয়ার নেতৃত্বে কাপাসিয়ার সিংহশ্রী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মেসার্স কমর উদ্দিন ব্রিকস (কেইউবি), কামাল উদ্দিন ব্রিকস (৯৯১), মেসার্স ৩৩১ ব্রিকস, মেসার্স ৫৫৫ ব্রিকস ও মেসার্স আব্দুল হাই মেম্বার ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মাধ্যমে পানি দিয়ে ইটভাটাগুলোর আগুন নেভানো হয় এবং ভেঙে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, পরিবেশগত ও অবস্থানগত ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটাগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়। দূষিত ধোয়া ও বর্জ্য নির্গমন করে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করায় ইটভাটাগুলোকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আদালত।
এ সময় গাজীপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম সরকার, রিসার্চ অফিসার আশরাফ উদ্দিন ও পরিদর্শক শেখ মোজাহিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন গাজীপুর র‌্যাব-১, আনসার ব্যাটেলিয়ন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইটভাটা উচ্ছেদচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাগলা নদী তীরবর্তী অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৭টি ইটভাটা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের বহলাবাড়ি এলাকায় সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উচ্ছেদের মাধ্যমে পাগলা নদী পাড়ের প্রায় ৪১ একর জমি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনটি ইটভাটা সম্পূর্ণ এবং ৪টি আংশিক উচ্ছেদ করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসরুবা ফেরদৌসের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চলে।
সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা ইটভাটা তিনটি হলো—শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিসমিল্লাহ্ ভাটা, তোফিকুর রহমানের সাথী ভাটা এবং সাগর আলী বিশ্বাসের মুন ভাটা। এছাড়া আংশিক উচ্ছেদ ভাটাগুলো হলো—মেসার্স হ্যাপি অ্যান্ড সাদিয়া ব্রিকস, মেসার্স হ্যাপি অ্যান্ড সাদিয়া ব্রিকস-২, মেসার্স খান ব্রিকস ও মেসার্স বিশ্বাস ব্রিকস-২।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসরুব ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা প্রকৃতপক্ষে কোনও ইটভাটা উচ্ছেদ করিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগীতায় শুধু নদী শ্রেণির অবৈধ জমি দখলমুক্ত করেছি। অবৈধ নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলবে।’