আরএমও বলেন, ‘শীতের প্রকোপ বাড়ায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা। কিন্তু হাসপাতালে তিনটি শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও কর্মরত নেই। এতে তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
সরেজমিন শিশু ওয়ার্ডে দেখা গেছে, ওয়ার্ডে বেডের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নেবুলাইজার দিয়ে শ্বাসকষ্ট দূর করার চেষ্টা হচ্ছে এক মাসেরও কম বয়সী বেশ কটি নবজাতককে। অনেক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সেবা দিচ্ছেন কর্তব্যরত নার্সরা।
চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার ঠান্ডার কারণে তার সন্তানকে হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার নিউমোনিয়া হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরই তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে।
ছয় বছর বয়সী আরেক শিশুর বাবা জাহিদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ১০ দিনে ধরে তার সন্তান জ্বরে ভুগছে। দু’দিন আগে হাসপাতালে ভর্তির পর শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পাননি ।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী শহিদুল ইসলাম জানান, ফুলগাজীর শ্রীপুর থেকে তিনি এসেছেন। দু’দিন ধরে সিট না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘ভর্তি হওয়া শিশুদের যথাসাধ্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ায় দুজন শিশু বিশেষজ্ঞ অন্যত্র বদলি হয়েছেন। এ অবস্থায় একজন মেডিক্যাল কর্মকর্তাকে দিয়ে অভ্যন্তর ও বহির্বিভাগে শিশুদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দাগনভূঞা থেকে আরেকজন মেডিক্যাল কর্মকর্তাকে ডেপুটেশনে সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। এ দুজনকে দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’