ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, ‘ আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আপনারা আসতে চেয়েছেন, এটি খুবই ভাল কথা। এই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য আপনাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’ সম্প্রতি ‘বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না’ বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে এই কথা বলেছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক ।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় বিএনপির উদ্দেশে ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টে আপনাদের জন্ম। নীল কুঠির, লাল কুঠির ষড়যন্ত্র করে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারসহ নানা রকম ক্ষমতার অপব্যাবহার করে আপনারা হ্যাঁ-না ভোট করেছেন। আপনারা এদেশে মিডিয়া ঐক্য করে নির্বাচন করেছেন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে ‘
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের এমপি মনির, সংরক্ষিত আসনের এমপি মমতা হেনা লাভলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, কুমুদিনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান প্রমুখ। এসময় কলেজের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সাবেক ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে শহরে কুমুদিনী সরকারি কলেজের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও কলেজে গিয়ে শেষ হয়। আলোচনা শেষে ৭৫ পাউন্ডের কেক কাটা হয়।
প্রসঙ্গত, নারীশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইল শহরে নিজের মায়ের নামে কুমুদিনী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা। ১৪ দশমিক ১৩ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত বৃহত্তর ময়মনসিংহের এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি দিয়ে। পরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণি চালু হয়। ১৯৭৯ সালে কলেজটি সরকারি করা হয়। বর্তমানে কলেজে ১৬টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং ৮টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে।