ম্যাডাম কেমন আছেন?

12শনিবার সকাল ১১টা। কয়েকজন মিলে ধরে নিয়ে আসছেন একজন বয়স্ক নারীকে। কুশল বিনিময় করছেন, কেউবা পা ধরে সালাম করছেন। এমন দৃশ্যর দেখা মিলেছে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে। ওই বয়স্ক নারী প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ আরা। সেখানে উপস্থিত বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল ডা. বেগম নাজনীন তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ম্যাডাম কেমন আছেন আপনি? ম্যাডামও উত্তর দেন ভালো আছি, তুমি কেমন আছো?
সেখানেই দেখা মেলে দুই বান্ধবী জাহানারা বেগম ও মাসুদা বেগমের। কুশল বিনিময় ও একে অপরের খোঁজখবর নেন তারা। বলেন, নাতি-নাতনি নিয়ে দিনকাল ভালোই যাচ্ছে। বয়স হয়েছে তারপরও তারা আলোচনায় মেতে উঠেন কৈশোরের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণে।

শনিবার দিনব্যাপী পুরো বিদ্যালয়জুড়ে ছিল বান্ধবী, সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মিলনমেলা। নেচে-গেয়ে, আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে তারা পালন করেন ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫০তম বর্ষপূর্তি।

অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘদিন পর বান্ধবীদের পেয়ে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। গল্পে-গল্পে ছিল পুরনো স্মৃতিকথা। শিক্ষিকারা ছাত্রীদের পেয়ে এবং ছাত্রীরা শিক্ষিকাদের পেয়ে সবার মধ্যে ছিল অন্যরকম এক অনুভুতি।

১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার আয়োজিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনাজপুর গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘অ্যাসো মিলি সবে .... স্কুলের মিলন মেলায়’ শীর্ষক শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে সমবেত হন সহস্রাধিক সাবেক ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

সকালে ১৫০ বছর পূর্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ আরা।

মমতাজ আরা বলেন, অনেকদিন পর পুরনো শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের কাছে পাওয়া, তাদের আলিঙ্গন করা, তাদের সঙ্গে কথা বলা! এ এক অন্যরকম অনুভুতি, যা বলে বোঝানোর মতো নয়।13

হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, এমন একটি মিলনমেলায় আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও যেন সম্পর্কে ভাটা না পড়ে সেজন্য এমন মিলন মেলা  প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে হওয়া উচিত।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল ডা. বেগম নাজনীন বলেন, এমন একটি অনুষ্ঠান হবে জানতে পারার পর থেকেই মনটি পড়ে ছিল এখানে। এই আয়োজনে আসতে পেরে এবং প্রিয় শিক্ষিকা, বান্ধবী ও সহপাঠীদের কাছে পেয়ে অন্যরকম অনুভূতি মনে হচ্ছে। প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হবে এটাই আমাদের কাম্য।

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী আস্থা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান নাফিসা সুলতানা বলেন, অনেকের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। পুরোনো সেইসব স্মৃতির কথা ভাগাভাগি হচ্ছে। যেন আমরা চলে গিয়েছি সেই শিক্ষার্থী জীবনে।

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে স্কুল প্রাঙ্গনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গার্লস হাই স্কুল এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রেবেকা আহমেদ। বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মাহফুজুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শচিন চাকমা, ১৫০ বছর পূর্তি উৎসব কমিটির আহ্বায়ক জিনাত আরা চৌধুরী মিলি প্রমুখ।

এর আগে সকালে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। পরে কেক কেটে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।