সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতানা কামাল বলেন বলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষায় আমরাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। চুপ থাকলে চলবে না।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বের অন্যতম একটি সুন্দর সংবিধান। সংবিধানের ৩১ থেকে ৩৫ অধ্যায়ে পরিষ্কারভাবে মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আমরা এই দেশকে স্বাধীন করেছি অনেক রক্ত, আবেগ, ত্যাগের বিনিময়ে। সুসংগঠিত হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র মানুষ জীবন দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছে। সেই স্বাধীন রাষ্ট্রে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড হবে, আর আমরা কিছু বলবো না, সেটা হতে পারে না।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘পৃথিবী ঘুরে আমরা আজ বলে বেড়াচ্ছি—আমার দেশে দারিদ্র্য ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা,বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা নিশ্চিত করেছি। অথচ একটি মহাল্লায় ১০ জন দরিদ্র মানুষ থাকলে তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৯ জনকে বঞ্চিত করছি। ভাতার কার্ড বিতরণকারীদের দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা কেউ কথা বলছি না। দেশের এক লাখ মানুষ আজ যা বলছে, আমরা কোটি কোটি মানুষ তা সহজেই মেনে নিচ্ছি। কোনও প্রতিবাদ করছি না। প্রতিবাদের সাহসও দেখাচ্ছি না। অথচ সংবিধান পরিষ্কারভাবে বলছে, মানবসম্পদই এ দেশের মূল চালিকাশক্তি, জনগণই সব ক্ষমতার অধিকারী। ছাড় দিতে দিতে আমারা সাংবিধানিক ক্ষমতার কথা ভুল গেছি।’
তিনি বলেন, ‘১৭ কোটি মানুষের মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ যদি দুর্বৃত্তায়ন করে সব কিছু নিয়ে নেয়, তারপর কী আমরা নেই হয়ে যাবো? এখন বাঁশের চেয়ে কোঞ্চি শক্ত হয়ে গেছে। কোনও অনুষ্ঠান হলে সেখানে চেয়ারে লেখা লাগে এমপি ছাড়া কেউ বসবেন না। আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির পরিচয় কোথায় যাচ্ছে? এই জাতির অনেকে ফতোয়া দিয়ে নারী-শিশুদের পিটিয়ে মারে। কেউ কিছু বলে না, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে এবং ভিডিও করে ভাইরাল করে। আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার পর আমাদের এগুলো শুনতে হয়। তারা বলে, তোমাদের দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু এসব দিকগুলোতে তোমরা পিছিয়ে আছো।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘মানববাধিকারের সংস্কৃতি নেই বলে বিচারহীনতা বেড়েছে। আবার বিচারহীনতা চলছে বলে দিনের পর দিন মানববাধিকার লঙ্ঘন বেড়ে যাচ্ছে। এটি বিষাক্ত চক্রের মতো। বন্ধ করতে পারছি না। এ জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা এমন হয়ে গেছে, মানববাধিকারের কথা বললেই ভাবা হচ্ছে এরা বিপক্ষে কথা বলছে।’
এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘আপনারা আমাদের কাছে হাত জোর করে বলেছেন, আমাদের সেবা করার সুযোগ দিন। আমরা সে সুযোগ দিয়েছি। সঠিক ও স্বচ্ছভাবে সেবা করেন।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘বন্ধবন্ধুরঅসমাপ্ত আত্মজীবনীর কথা তাঁর কন্যাকে স্বরণ করিয়ে দিতে চাই। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, য স্বৈরাচারীরা এমনভাব করে, যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের নয়, বিশেষ গোষ্ঠীর। এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিতে চাই। তিনি (শেখ হাসিনা) নিজেও বইটি পড়েছেন। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, আপনার পিতার নির্দেশ অনুযায়ী দেশ চালাতে চান। তাহলে বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হবেন।’
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—উত্তরণ পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনিসুর রহিম, সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম হায়দার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী প্রমুখ।