মাতৃভাষায় ৬৭ হাজার বই পাবে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদানবছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) বই উৎসবে নতুন বই পাবে সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীরা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরাও এর বাইরে নয়। তারা পাবে মাতৃভাষায় বই পড়ার সুযোগ। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পর এবার বই দেওয়া হবে তৃতীয় শ্রেণিতেও। রাঙামাটির চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে ৬৭ হাজার ৭০৮টি বই বিরতণ করা হবে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ২০১৭ সালে প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের স্ব স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণি, ২০১৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি ও ২০২০ সালে তৃতীয় শ্রেণিতেও বই পাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিশুরা। ২০২০ সালে ৩০ হাজার ৭৪৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হবে ৬৭ হাজার ৭০৮টি বই। প্রাক-প্রাথমিকে ১৭ হাজার ৯৪০টি, প্রথম শ্রেণিতে ১৯ হাজার ৩৫০টি বই বিতরণ করা হবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২২ হাজার ৬৪১ টি বই বিতরণ করা হবে। তৃতীয় শ্রেণিতে ৭ হাজার ৭৭৭টি মাতৃভাষার বই বিতরণ করা হবে।ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান

এর আগে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে জেলায় মাতৃভাষায় মোট ৮৩ হাজার ৫০৯টি বই বিতরণ করা হয়। এবার বইয়ের সংখ্যা কমেছে। শিক্ষার্থী কম হওয়ার কারণে বইও কম বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল বাহাদুর ছেত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষায় বই দেওয়া সরকারের অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। আগে শিশুরা মাতৃভাষার অক্ষরও চিনতো না। তখন তারা মাতৃভাষার অক্ষর চিনতে পারছে, পড়তে ও লিখতে পারছে। এতে করে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা নিজেদের ভাষাকে রক্ষা করতে পারবে।’ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান

চাকমা ভাষার প্রশিক্ষক প্রসন্ন কুমার চাকমা বলেন, ‘এখনও ভালো করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি। এরপরও এবার তৃতীয় শ্রেণির কার্যক্রম শুরু হলো। এতে আমি মনে করি, দেওয়ার জন্য দেওয়া হচ্ছে। যে উদ্দেশ্যে দেওয়ার কথা ছিল সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমার কিছু প্রস্তাবনা ছিল। যেমন- প্রতিটি শিক্ষককে প্রশিক্ষিত করতে হবে। মাতৃভাষার পাঠদান ক্লাস রুটিনে আন্তর্ভুক্ত করা। স্কুলগুলোতে পাঠদানের কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা মাধ্যমে শিক্ষার মান যাচাই করা।  এগুলো হচ্ছে না।’

রাঙামাটি সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ত্রিরতন চাকমা জানান, পৌর এলাকায় ২৬টিসহ সদর উপজেলায় ৮৯টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকে চাকমা ৯৪৪, মারমা ২৬ ও ত্রিপুরা ভাষায় ১৫৩ টি বই পাওয়া গেছে। প্রথম শ্রেণিতে চাকমা ১০৬২টি, মারমা ২৫ টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৩৫ টি বই। দ্বিতীয় শ্রেণিতে চাকমা ১১৩২ টি, মারমা, ৩২ ও ত্রিপুরা ভাষায় ৩৪ টি বই এবং তৃতীয় শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় ১১১৪টি, মারমা ৪৩ ও ত্রিপুরা ভাষায় ৫৪টি বই বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে। ১ জানুয়ারি শিশুদের হাতে দেওয়া হবে বইগুলো।  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, ‘মাতৃভাষায় পাঠদানে আমরা শতভাগ সফল এটি বলা ভুল হবে। তবে ৬০ ভাগ সফল আমরা। ১ জানুয়ারি সাধারণ বইয়ের সঙ্গে মাতৃভাষার বই পাবে সব শিশু। ২০১৭ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা মাতৃভাষায় পড়তে পারছে। প্রথমে প্রাক-প্রাথমিকে হলে পর্যায়ক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি মাতৃভাষায় বই দেওয়া হয়েছে। এবছর নতুন করে তৃতীয় শ্রেণিতে শুধুমাত্র বাংলা বিষয়ে মাতৃভাষায় বই দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার দশ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ পাঠক্রম ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য,  ২০১৭ সাল থেকে দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার জন্য বই বিতরণ শুরু করে সরকার। পার্বত্য এলাকায় প্রধানত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রি এই পাঁচটি ভাষা প্রচলিত। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষাভাষি শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক বই পাচ্ছে।