রাজশাহীতে আপসের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ছে

আদালতআপসের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ছে রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি আদালতে। ২০১৯ সালে মামলা নিষ্পত্তির হার ১০৪ শতাংশ। যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালের ১১ মাসে মামলা দায়ের হয়েছে নয় হাজার ৪৭৪টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ হাজার ২০৭টি।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাসিক পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এ তথ্য জানানো হয়।

কনফারেন্সে বলা হয়, এই আদালতে গত ১২ বছরে মামলা হয়েছে ৯৯ হাজার ৩১৯টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪০৩টি। মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যা অভাবনীয় সাফল্য।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তালুকদারের সভাপতিত্বে কনফারেন্সে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল অধিকারী, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল আমিন ভুঁইয়া, ম্যাজিস্ট্রেসির অন্য ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে জানানো হয়, আদালতে মামলা দায়ের বছরের পর বছর ঘোরাঘুরি ও হয়রানির দিন শেষ। আদালতে এসে মানুষ এখন স্বল্প সময়ে প্রতিকার পাচ্ছেন। আর এটা সম্ভব হচ্ছে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা আপসের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির কারণে। এছাড়াও সম্মেলনে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিচারক ও পুলিশসহ অন্য সরকারি বিভাগের ওপর সমন্বয় সাধনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কনফারেন্সে ফোকাল পারসন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালে রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে এক হাজার ৩৪১টি মামলা আপসের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে যৌতুক এবং পারিবারিক নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা ৭৩১টি। এ মামলাগুলোর মধ্যে ৫৭১টি মামলায় আপসে নিষ্পত্তি হয়েছে। ২৫২ দম্পতি আদালতের মধ্যস্থতায় আপসের ভিত্তিতে সংসার করছে। ৩৪১টি মামলায় অসহায় নারীরা তিন কোটি ৭০ লাখ ১১ হাজার ৭২৩ টাকা বুঝে পেয়েছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে যৌতুকের মামলা আপসযোগ্য হওয়ার কারণে। অন্য ফৌজদারি মামলা আপসযোগ্য হলে নিষ্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়বে।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালসার গ্রামের একটি যৌতুক মামলার বাদী সোনিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা-মার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ থাকার কারণে পালিত পিতার কাছে মানুষ হই। পালিত বাবা আমাকে চার বছর আগে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নানারকম নির্যাতন করতে থাকলে আমি আদালতে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মামলা দায়ের করি। চার-পাঁচটি তারিখের মধ্যেই আদালত আমাদের মামলাটি আপস করে দেন। আমি আপসের মাধ্যমে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা বুঝে পেয়েছি। এজন্য আমি বিচারক, আইনজীবীসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। ’

রাজশাহী জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক। সারাদেশের চেয়ে রাজশাহীতে মামলা নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত সন্তোষজনক।’