জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এসএম ইউসুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জামিনে মুক্ত হওয়া অন্য দুই চিকিৎসক হলেন– অরুনেশ্বর পাল চৌধুরী ও শাহদাৎ হোসেন রাসেল।
খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের রোগী মুন্সেফপাড়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়ার মৃত্যুতে তার বাবা শিহাব উদ্দিন গেন্দুর দায়ের করা মামলায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। মামলা হওয়ার পর প্রথমে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আসেন তারা। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে বিভিন্ন কর্মসূচি দিলেও পরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখার একদিনের কর্মসূচি পালন করে বিএমএ।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবু সাঈদ জানান, সংগঠনের সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। আগের সিদ্ধান্ত মতে, শনিবার একদিনের জন্য সব প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখা হয় বলে তিনি জানান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর প্রসবজনিত বেদনা নিয়ে পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষিকা নওশিন আহমেদ দিয়া একই এলাকার ডা. ডিউক চৌধুরীর মালিকানাধীন খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার আগাম প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দিয়া একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ৪ নভেম্বর ভোরে দিয়ার প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলে তাকে আবারও খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন ডিউক চৌধুরী, অরুনেশ্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল ‘ভুল ইনজেকশন এবং ওষুধ’ প্রয়োগ করার পর দিয়া অজ্ঞান হয়ে যান। এ সময় দিয়ার স্বজনেরা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকতে বললে ডিউক ও বাকি দুই চিকিৎসক চুপ থাকেন। একপর্যায়ে দিয়ার মৃত্যু হলেও তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ওইদিন দুপুর ১টার দিকে দ্রুত তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে দিয়াকে নিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টা আগেই দিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।