আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ওয়েস্টার্ন ক্রুজ নামের একটি প্রমোদ তরীতে জাহাজ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি জাহাজের ধারণ ক্ষমতা ৮ হাজার ডিডব্লিউটি (ডেডওয়েট টনেজ)। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরুর দিন এ দুটি জাহাজ ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কসের কাছে হস্তান্তর করা হলো। আট হাজার ডিডব্লিউটি ধারণ ক্ষমতাবিশিষ্ট কার্গো জাহাজ এর আগে কখনও বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। এই দুটি জাহাজই এখন পর্যন্ত দেশে নির্মিত সবচেয়ে বড় জাহাজ। ভারতের কাছে রফতানি করা এ দুটি জাহাজ বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।’
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কস ওয়েস্টার্ন মেরিনকে চারটি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়। এই প্রকল্পটি ভারত থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ মূল্যের রফতানি আদেশ। এরমধ্যে প্রথম দুটি জাহাজ জেএসডব্লিউ রায়গড় ও জেএসডব্লিউ প্রতাপগড় ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর দুটি জাহাজ জেএসডব্লিউটি সিংহগড় ও জেএসডব্লিউ লোহগড় আজ হস্তান্তর করা হলো। প্রতিটি জাহাজের বিক্রয় মূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা করে চারটি জাহাজের মূল্য ২০০ কোটি টাকা।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন শোহাইল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুটি জাহাজের প্রত্যেকটি ১৩০০ কিলোওয়াট ও ৯০০ আরপিএম ইয়ানমার মেরিন ইঞ্জিন দ্বারা চালিত, যা শতভাগ লোডেড অবস্থায় সর্বোচ্চ ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। জাহাজগুলো মুম্বাই ও গোয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জয়গড় বন্দর থেকে মহারাষ্ট্রে অবস্থিত ধরমতার বন্দরে খনিজ লোহা এবং কয়লা বহন করবে।’