তবে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ৭ মার্চের ভাষণ শুরু হওয়ার পর বিশাল স্টেজ থেকে শোলার কাগজে তৈরি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মাথার কিছুটা অংশ ভেঙে পড়ে। এই ভগ্নাংশ নিয়েই অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা গড়ার শপথ পাঠ করান বঙ্গবন্ধুর ভাতিজা শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। ১৭ জন আলেমের সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ দোয়ায় জাতির জনক, ১৫ আগস্ট নিহত তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। দোয়ায় বাংলাদেশের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে স্মরণের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বিবেচনায় নিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও ‘চাইল্ড ইন্টেগ্রিটি ও শিশু বঙ্গবন্ধু ফোরাম’-এর ব্যবস্থাপনায় এ দিনের অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ছিল খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তোপধ্বনির মাধ্যমে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার দিনের প্রথম প্রহরের সূচনা, বঙ্গবন্ধুর ওপর ডকুমেন্টরি প্রদর্শন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন। খুলনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘শিশু বঙ্গবন্ধু ফোরাম’-এর শিক্ষার্থী, বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ বিপুল উৎসাহে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আবেগঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানটি ভালোই ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মাথার অংশ ভেঙে পড়ায় মনটা খারাপ হলো। ওই অংশটি ভেঙে পড়ায় মঞ্চ দেখতে খারাপ লাগছিল।