১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর জেলার জীবননগর শহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পতন ঘটে। তবে চূড়ান্ত বিজয় আসে আরও পরে।
৪ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনী যৌথভাবে জীবননগরের ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে তারা জীবননগর, দত্তনগর, হাসাদহ সন্তোষপুর, রাজাপুর, ধোপাখালী ও মাধবখালীতে অবস্থানরত পাকিস্তানি শত্রু বাহিনীর উপর অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী প্রচণ্ড যুদ্ধ।
অপরদিকে জেলার দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চল দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর গেরিলা আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হওয়ার পথ সুগম হয়।
৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকিস্তানি বাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহরমুখী মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ব্রিজের একাংশ শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেয়। যাতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অনুসরণ করতে না পারে। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকিস্তানি বাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার দিকে চলে যায়। ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।
মুক্ত দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তেলন করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন। এরপর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শহরে র্যালি বের করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস,জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু,জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন নেতৃত্ব দেন।
/জেবি/ এফএস/