কালীগঞ্জ ধানহাটা মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসন তাদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি না মানায় তারা এসব কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কালীগঞ্জ উপজেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া বলেন, ‘কুলি-মজুর-শ্রমিকরা ধুলা-বালি, ময়লা- কাদা উপেক্ষা করে মাথায় ও পিঠে ভারী বস্তা লোড-আনলোড করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখলেও পেটপুরে দু-মুঠো ভাত খেতে পারছে না। বর্তমানে সবকিছুর মূল্য বৃদ্ধি পেলেও তাদের মজুরি বাড়েনি। আমদানি-রফতানি, লোড-আডলোডের মূল্য অন্যান্য বাজারে বৃদ্ধি পেলেও কালীগঞ্জ ধানহাটা মালিক সমিতি মজুরি বৃদ্ধি করেনি।’
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও উল্লেখ করেন, কোটচাঁদপুর উপজেলার ধানহাটায় আমদামি ৫ টাকা, লোড ১৩ টাকা, আনলোড ৭ টাকা, বারবাজার ধানহাটায় আমদানি করানো লোড ১৩ টাকা, আনলোড ৬ টাকা, চাইরাইল বাজারের ধানহাটায় আমদানী ৩ টাকা, লোড ১৩ টাকা ও আনলোড ৬ টাকা, কোলাবাজারের ধানহাটায় আমদানি আড়াই টাকা, লোড ১০ টাকা, আনলোড ৬ টাকা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলতলা বাজারে আমদানি ৩ টাকা, লোড ১৩ টাকা এবং বিষয়খালী বাজারে আমদানি ৩ টাকা, লোড ১৪ টাকা ও আনলোড ৬ টাকা মণ প্রতি নির্ধারণ রয়েছে। কিন্তু কালীগঞ্জ ধানহাটা মালিকরা তাদের আমদানি রপ্তানি ও লোড আনলোড সব মিলে মণ প্রতি মোট ১২ টাকা করে দেয়। তারা ১২ টাকা মজুরীর পরিবর্তে ১৮ টাকা দাবি করেন।
এর আগে, শ্রমিকরা শহরে আমদানি-রফতানি বাবদ মণপ্রতি ১২ থেকে ১৮ টাকা এবং গ্রামগঞ্জে ১৪ থেকে ২৫ টাকা দাবি করে মালিকপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানান। এছাড়া শুধু লোড-আনলোড বাবদ পাঁচ থেকে আট টাকা বাড়ানোর বাড়ানোর দাবি করেন। কিন্তু তাদের দাবিতে মালিকপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন কর্ণপাত না করায় তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিক মণ্ডল, সহ-সভাপতি সোনা মিয়া, সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী, শ্রমিক নেতা মন্টু গোপাল বাবু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কালীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আমির হামজা বাবলু।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, ‘আমি একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তা দেখার সময় পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’