হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির অভিযোগ

হাবিপ্রবি

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ২ ডিসেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর। মোট চারটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয় ৮ ডিসেম্বর। প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তিও শুরু হয়। ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়ায় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশের পরেই দেখা মিলেছে নানা অসঙ্গতি।  ‘বি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে ১৫৪তম মেধাতালিকায় চান্স পাওয়া মামুন ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেন। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে-এর সত্যতা মিলে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মেধাতালিকায় ১৫৪তম হয়ে প্রথমে গণিত পেলেও অটোমাইগ্রেশনের পর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন মামুন (রোল নং-২১৩৪৩৯)। যেখানে ওই শিক্ষার্থীর বিষয় পছন্দক্রম ছিল যথাক্রমে ইইই, সিএসই, ইসিই ও মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং। অন্যদিকে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ১৯৬তম মেধাক্রম (রোল নং-২১২৮৯০) নিয়ে এক শিক্ষার্থী পেয়েছেন 'ইইই'। এই শিক্ষার্থীরও বিষয় পছন্দক্রম ছিল ইইই, সিএসই, ইসিই ও মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং।

দেখা যায় পছন্দক্রম হিসেবে প্রথম বিষয় 'ইইই' থাকলেও ১৫৪তম মেধাক্রম নিয়ে মেধাতালিকায় থাকা মামুন ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থী 'ইইই' পাননি। অন্যদিকে ১৯৬তম মেধাক্রম নিয়ে ‘ইইই’ পেয়েছেন অন্য শিক্ষার্থী।

একই ঘটনা ঘটেছে ‘বি’ ইউনিটের তৃতীয় শিফটের ফলাফলেও। এই শিফটে মেধাতালিকায় ৮৪তম শিক্ষার্থী পেয়েছেন ‘ইসিই’ । এই শিক্ষার্থীর বিষয় পছন্দক্রম ছিল সিএসই, ইইই, ইসিই, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং। বিষয় পছন্দক্রম অনুযায়ী ৮৪তম মেরিট পজিশন পাওয়া শিক্ষার্থীর সাবজেক্ট পাওয়ার কথা ছিল ‘সিএসই’। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী সেটা না পেলেও  ১৯৬তম  মেরিট পজিশন নিয়ে অপেক্ষমান তালিকা থেকে ‘সিএসসি’ পেয়েছে অন্য আরেকজন। এ ব্যাপারে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সহযোগী  সদস্য সচিব প্রফেসর ড.মো.   মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা এ বিষয়ে অবগত হয়েছি। ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড.মোহাম্মদ খালেদ হোসাইন বলেন, এটা হয়তো সফটওয়্যার প্রবলেমের জন্য হয়েছে। তবে আমরা ভর্তি শেষে এ ব্যাপারে মিটিং ডেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো কোনও অসঙ্গতি চোখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর্কিটেকচার-এর লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে ফলাফল কম্বিনেশন করে দেওয়ার ফলে এমনটা হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।