ভারী যানবাহন চলাচল করলেও যাতে ভেঙ্গে না যায় সে জন্য কংক্রিটের ঢালাই করা স্লাব বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল মিরহাজীরবাগ প্রধান সড়কের ম্যানহোলগুলোতে। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ায় বছর না পেরুতেই স্লাবগুলো ভেঙ্গে গেছে। আবারও খুলে গেছে ম্যানহোলের মুখগুলো। চলাচলের সুবিধার্থে ব্যবসায়ীরা ওইসব ম্যানহোলের ওপর লোহার পাত বসিয়ে দিয়েছে। বাকিগুলো পড়ে আছে অরক্ষিত। এই অবস্থার মধ্যে দিয়েই স্থানীয়দের নিত্য চলাফেরা করতে হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মিরহাজীরবাগের মত নগরীর আরও অনেক এলাকার ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। অলিগলিতে থাকা ম্যানহোলগুলো মৃত্যুফাঁদ হয়ে আছে। দিনের পর দিন এভাবে চললেও নজর নেই সংশ্লিষ্টদের।
পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়ার মুরগিটোলা গলিতে ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। ওয়ারি বলধা গার্ডেনের সামনের সড়কের ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙ্গে রয়েছে। জুরাইন কবরস্থান রোডে একটি ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। ইস্কাটনে ইস্পাহানী মহিলা কলেজের বিপরীতে গলির মুখে ড্রেনেজ লাইন সংক্রান্ত বড় গর্ত হয়ে আছে। গর্তে রয়েছে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। যাত্রাবাড়ী বিদ্যুতের গলির ভেতর অন্তত দুটি ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। অপর কয়েকটি ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে কংক্রিটের স্লাব বসিয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, পোস্তগোলা, জুরাইন, মুরাদপুর, যাত্রাবাড়ী লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, হাজারীবাগ, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুরের রূপনগর, ভাসানটেক, কাফরুল, বাড্ডা, খিলক্ষেত, জোয়ারসাহারা, বারিধারা জে-ব্লক, নতুনবাজার, রামপুরা, খিলগাও, মুগদা, বাসাবো, গোড়ান, মানিকনগর, ধলপুর প্রভৃতি এলাকার অলিগলিতেও অনেক ম্যানহোল ঢাকনাবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
আলাপকালে ধলপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কতিপয় মাদকাসক্ত ব্যক্তি রাতের আঁধারে সুযোগ পেলেই ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙ্গে নিয়ে যায়। কিছু ঢাকনা নিম্নমানের হওয়ায় গাড়ির চাপে ভেঙে যায়। তিনি বলেন, এই ঢাকনা একবার উধাও হলে সিটি করপোরেশন আর প্রতিস্থাপন করতে চায় না। ফলে দিনের পর দিন ঝুঁকি নিয়েই আমাদের চলাফেরা করতে হয়।
৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, মিরহাজীরবাগ প্রধান সড়কটিকে নতুন করে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কাজটি হলে ম্যানহোল নিয়ে আর ঝামেলা থাকবে না।
জানা গেছে, রাজধানীতে ড্রেনেজ, পানি, গ্যাস ও টেলিফোনসহ সেবামূলক কাজের জন্য ভূগর্ভে বিভিন্ন ধরনের লাইন রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, বিটিসিএল প্রভৃতি সরকারি প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও সামিট গ্রুপসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ লাইনের জন্যও ম্যানহোল তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার লাইন ও ম্যানহোল বেশি। মূলত এসব লাইনের মধ্যে থাকা ম্যানহোলগুলোর উল্লেখযোগ্য একটা অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ওয়াসার ম্যানহোল রয়েছে ৩২ হাজার ৫৯৮টি। এর মধ্যে রয়েছে ডিএসসিসির ম্যানহোল ১৪ হাজার ২৪০টি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ম্যানহোল রয়েছে প্রায় সমসংখ্যক।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, বর্তমানে ডিএসসিসির প্রায় অর্ধশত ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। ওয়াসার ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল রয়েছে ৬০টি। এগুলো পুন:স্থাপনের কাজ চলছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, তাদের এলাকার প্রায় সব ম্যানহোলেরই ঢাকনা রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কুদরতউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডিএনসিসির প্রায় সবগুলো ম্যানহোলে ঢাকনা রয়েছে। যেখানেই ঢাকনা নষ্ট হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিস্থাপন করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ২৬ জানুয়ারি শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে জিহাদ নামের এক শিশু মারা যায়। এরপর গত ৮ ডিসেম্বর শ্যামপুরের পালপাড়ার বড়ইতলায় ম্যানহোলের গর্তে পড়ে মারা যায় আরেক শিশু নীরব।
/ওএফ/টিএন/
আপ-এসটি