মানবতাবিরোধী অপরাধ: কারাগারে সুন্দরবনের স্টেশন কর্মকর্তা

Bagerhat Rajakar ( 10.12.2015)

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মো. ইউসুফ আলী ওরফে একেএম ইউসুফ আলমকে (৫৮) ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রবিবার এ আদেশ দিয়েছেন।

গত ৯ ডিসেম্বর (বুধবার) গভীর রাতে র‌্যার-৮ এর একটি দলের সহযোগিতায় শরণখোলা থানা পুলিশ তাকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম মিঞা বলেন,  বন কর্মকর্তা একেএম ইউসুফ আলমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই বন কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর জানতে পেরে শরণখোলা ছেড়ে দুবলার ফরেস্ট ক্যাম্পে গিয়ে আত্মগোপন করে। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় তাকে সুন্দরবনের দুবলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আসামি একেএম ইউসুফ আলম ছাত্র ছিলেন। সে সময়ে তিনি আল-বদর বাহিনীতে যোগ দিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার সুবর্ণখিলা এলাকায় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালান। প্রাথমিক তদন্তে এসব ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা মিললে ২০১৫ সালের গত ১ এপ্রিল জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আটজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়। তিনি ওই মামলার তিন নম্বর আসামি। এই আটজনকে গ্রেফতার করতে গত ২২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে ৯ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সে অনুযায়ী পুলিশ তাকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, একেএম ইউসুফ আলম ১৯৭৯ সালের ৯ আগস্ট বন বিভাগে ফরেস্টার পদে যোগদান করেন। তিনি ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জে ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে যোগদান করেন। কিছুদিন আগে তিনি পদোন্নতি পেয়ে শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।

 

/ইউআই/এসটি/