এদিকে, মঞ্চে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে গত মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ধরমপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে লতিফুর রহমান বিলাস সর্দার, আজিজুর রহমান সাহজাহানের ছেলে সাহবাজ ও বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের মুলতান আলী আইভির ছেলে আসলাম বেগকে গ্রেফতার করেছে ভোলাহাট থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভুজা ইউসুফ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীন-বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইসরাত জাহান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন শুরু করে। এ সময় ওই ছাত্রী ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই...’ গানটি গাইতে শুরু করে। একপর্যায়ে এমপির সফরসঙ্গী বিলাস সরদার মঞ্চে উঠে তার গানের ডায়েরিটি কেড়ে স্টেজের বাইরে ছুড়ে ফেলে এবং তার মাইক্রোফোনটি কেড়ে নেয়। এ সময় মেয়েটি হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম। প্রথম পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলার সময় এমপি আমিনুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের অন্য একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার অনুসারীরাও তার সঙ্গে অবস্থান করছিল। ইসরাত জাহান গানটি শুরু করা মাত্র বিলাস সর্দার সেখান থেকে মঞ্চে এসে গান গাইতে বাধা দেয়, প্লেস্ট্যান্ডে থাকা ডায়েরি নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং মাইক্রোফোনটি কেড়ে নেয়।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আজগার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে এবং ঘটনাটি আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে।’
দলদলি ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘এই ঘটনা ন্যক্কারজনক। আমরা এর নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ডা. আশরাফুল হক চুনু বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এর মাধ্যমে শুধু ওই শিক্ষার্থীকেই লাঞ্ছিত করা হয়নি, অপমান করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুসহ গোটা জাতিকেই। উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঘটনার পরদিনই আমরা মামলা দায়ের করেছি।’
ভোলাহাট থানার ওসি নাসিরুদ্দিন মন্ডল জানান, ‘এ ঘটনায় ভোলাহাট থানায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা লাল মোহাম্মদ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এবং ভোলাহাট থানা পুলিশের এসআই রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন এবং এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিলাস সরদারসহ তিন জনকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘বিলাস ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, ফেসবুক খুঁজে দেখুন তাহলে প্রমাণ পাবেন। তার বাবা বিএনপি করে। আমি বিলাসকে চিনিও না। আমি ঘটনার বিষয়টি জানি না, আমি খাওয়া-দাওয়ার পর সেখান থেকে চলে আসি। পরে রাত ১০টার দিকে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো একেবারে মিথ্যা। আমিও চাই আপনারা সত্যটা বের করুন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাঈদ জামান আনন্দ জানান, বিলাস সর্দার ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিল না।