ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, ডিবি পুলিশের সাতজন বরখাস্ত

nonameঢাকার কেরানীগঞ্জে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের দায়ে ডিবি পুলিশের সাত সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি মো. সোহেল নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির ওসি মো. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরখাস্তরা হচ্ছেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের এসআই মো. ফরহাদ আলী, এসআই সৈয়দ মাহমুদুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. রাজীব আহমেদ, মো. রাসেল, মো. মুজাম্মেল হোসেন, মো. আব্দুল জব্বার ও মো. সুমন। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সরদার তাদের বরখাস্ত করেন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সোহেল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায় জেলা পরিষদ মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তিনি গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট থেকে ব্যবসায়িক কাজ শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাজিরাবাগ বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আলম মার্কেটের সামনে পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে একদল লোক তাকে জোরপূর্বক সাদা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। গাড়ির ভেতরেই তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় গিয়ে তারা আবার তার পরিবারের কাছে ফোন করে। ফোন পেয়ে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী সাবিনা বেগম, ছেলের বউ তানিয়া আক্তার ও বোন রাজিয়া পারভিন এসে ডিবি সদস্যদের হাতে সাড়ে চার লাখ টাকা তুলে দেয়। এ সময় সবাইকে ওই মাইক্রোবাসে উঠিয়ে কেরানীগঞ্জের লুটেরচর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার ওই ব্যবসায়ী ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সরদারের কাছে লিখিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে পুলিশ সুপার প্রাথমিকভাবে ডিবির ওই সাত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করেন।

ব্যবসায়ী মো. সোহেলের বাবার নাম মো. আনোয়ার হোসেন। বাড়ি ঝালকাঠি জেলার সদর থানার নেত্রাবাদ গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাজিরাবাগ এলাকায় মো. হাসেমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এই শাখায় নতুন যোগদান করেছেন। ফলে ভালোভাবে কোনও এলাকা বা কাউকে চেনেন না। তবে অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সাত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও তদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে একই অফিসের ডিবির এসআইসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে একটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।