বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুরে চিকিৎসার নামে কালাম মৃধা (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুকুরে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কালাম পটুয়াখালী সদর থানার খলিশাখালী গ্রামের মৃত তুজম্বর মৃধার ছেলে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে কথিত ফকির রিয়াজ এবং তার সহযোগী ও চাচাতো ভাই অসিম।
এই ঘটনায় শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিয়াজের বোন অনিকা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার সাঈদ বলেন, ‘চিকিৎসার নামে রিয়াজ ফকির ও অসীম ফকিরসহ কয়েকজন মিলে কালাম মৃধাকে পানিতে চুবিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যাকারী পলাতক রয়েছে। এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
নিহত কালামের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, ‘স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার সুস্থতার জন্য শুক্রবার সকালে দুই দেবরকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াজ ফকিরের বাড়িতে যাই। রিয়াজ ফকির তার চাচাতো ভাই অসিম ফকিরসহ ৪-৫ জন মিলে সকালে ও বিকেলে আমার স্বামীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও বাড়ির পুকুরে চুবায়। এতে অসুস্থ হয় পড়লে তাকে মাজার সংলগ্ন একটি রুমে রাখা হয়। সন্ধ্যার পরে মারা যান তিনি। হত্যাকারীরা লাশ রাতেই বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাগানে ফেলে রাখে। রাত ৩টার দিকে রিয়াজ ফকিরের বোন অনিকা বেগম আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। শনিবার সকালে অনিকা বেগম আমাকে অন্যত্র নিয়ে যাওযার চেষ্টা করলে আমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে।’
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) আনোয়ার সাঈদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রিয়াজ ফকির ও তার চাচাতো ভাই অসীম ফকির গাউছে আজম হযরত কালু শাহ দেওয়ানের মাজার শরীফের ব্যানারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছে।