রংপুর টার্মিনালে বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছেরংপুর নগরী থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিআরটিসির সব দোতলা বাস চলাচল মোটর মালিক সমিতি বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, কোনও কারণ ছাড়াই তাদের বাসের ড্রাইভার-হেলপারদের মারধর এবং জোর করে বাস আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছে মালিক সমিতির সদস্যরা। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সবগুলো দোতলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বিআরটিসি বাস ডিপোর দোতলা বাসের ড্রাইভার সালাম জানান, তিনি বাস নিয়ে পাগলাপীর অভিমুখে যাওয়ার পথে টার্মিনালের কাছে গেলে মালিক সমিতির লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। তারা জোর করে তাকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেয়। তারা বলেছে, রংপুর থেকে বিআরটিসির কোনও দোতলা বাস চালাতে তারা দেবে না। একই অভিযোগ করেছেন, বিআরটিসি বাস ডিপোর অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা্ও।

বিআরটিসি রংপুর বাস ডিপোর ব্যবস্থাপক নুরুল হক  বলেন, ‘সরকারি বাস সরকারি রাস্তায় চলবে, এতে তারা বাধা দিতে পারে না।’

ডিপো থেকে বাস বের হতে দেওয়া হয়নিএ প্রসঙ্গে মোটর মালিক সমিতির কর্মচারী রওনক বলেন, ‘মালিক সমিতির নির্দেশে আমরা দোতলা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দোতলা বাস চলাচল করলে আমাদের বাসে যাত্রী হয় না।’

এ বিষয়ে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘বিআরটিসির দোতলা বাস চলাচল করায় রংপুর থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী লোকাল বাসগুলো আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। দোতলা বাসগুলো লোকাল গাড়ির মতো যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলে। তারা কোনও নিয়ম মানে না। এ ছাড়াও মেট্রোপলিটান পুলিশ তাদের এলাকায় ছয়টি থানায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসের কাগজপত্র দেখার নামে হয়রানি করছে।  এই সব বিষয়সহ তিন দফা দাবি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমাদের দাবি ৪ ফেরুয়ারির মধ্যে মানা না হলে ৫ ফেরুয়ারি থেকে রংপুরে পরিবহন ধর্মঘট করতে আমরা বাধ্য হবো।’

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ বলেন, ‘সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’