গ্রেফতারকৃতরা হলো- বাকেরগঞ্জের আউলিয়াপুর গ্রামের মৃত কাঞ্চন আলী ফকিরের ছেলে ফকির রিয়াজউদ্দিন, তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার লাকী এবং তাদের ছেলে তৗহিদুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর রূপাতলী র্যাব-৮ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৮ এর ১ নম্বর কোম্পানির মেজর খান সজিবুল ইসলাম জানান, গত ৩১ জানুয়ারি আউলিয়াপুরে পটুয়াখালী থেকে আসা মানসিক ভারসাম্যহীন কালাম মৃধাকে চিকিৎসার নামে ১০১ বার পানিতে চুবায় এবং শারীরিক নির্যাতন করে অভিযুক্তরা। এতে কালাম মৃধার মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ পার্শ্ববর্তী বাগানে ফেলে রাখে তারা। এ ঘটনায় পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা আত্মগোপন করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর রূপাতলী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্তরা বন্ধ্যত্ব, মানসিক রোগসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার নামে সাধারণ জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। তারা চিকিৎসার নামে রোগীদের ভুয়া চিকিৎসা দেয় এবং তাদের কাছ থেকে টাকা, ছাগল, গরু, চাল, মুরগীসহ অন্যান্য জিনিসপত্র গ্রহণ করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তদের বাকেরগঞ্জে থানায় সোপর্দ করা হয়।
প্রসঙ্গত, কালামকে সুস্থ করতে তার স্ত্রী পারভীন বেগম ৩১ জানুয়ারি তার দুই দেবরকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াজ ফকিরের বাড়িতে যান। রিয়াজ তার চাচাতো ভাই অসিম ফকিরসহ ৪/৫ জন মিলে কালামকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও বাড়ির পুকুরে চুবায়। অসুস্থ হয় পড়লে তাকে মাজার সংলগ্ন একটি রুমে রাখলে সন্ধ্যার পরে মারা যান কালাম। হত্যাকারীরা লাশ রাতেই বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাগানে ফেলে রাখে সবাই পালিযে যায়। নিহত কালাম পটুয়াখালী সদর থানার খলিশাখালী গ্রামের মৃত তুজম্বর মৃধার ছেলে।