চসিক নির্বাচন: আ.লীগের মেয়র প্রার্থীর নাম জানা যাবে আজ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনআগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার আগে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তাদের অনেকে ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহও করেছেন। নগর আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, কোনও কারণে তফসিল ঘোষণা একদিন পিছিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাচ্ছে আজ  (১৫ ফেব্রুয়ারি)। কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটি আজই ঠিক করবেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে দলীয় নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, আইনজীবীও রয়েছেন। 

এই নির্বাচন ঘিরে নেতাকর্মীদের মনে এখন নানা প্রশ্ন– দলীয় প্রার্থিতায় বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন অগ্রাধিকার পাচ্ছেন নাকি আসতে যাচ্ছে পরিবর্তন? দলীয় নেতাদের হাতে যাচ্ছে মনোনয়ন নাকি ব্যবসায়ীদের? কার ভাগ্যে যাচ্ছে দলের মনোনয়নের টিকিট। তবে এবার সবক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে নতুন মুখ।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মনোনয়ন বিতরণ শেষ হয়েছে। গত পাঁচ দিনে মেয়র পদে মোট ১৯ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪০৬ জন ফরম সংগ্রহ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ দলীয় মনোনয়ন কমিটির বৈঠক হবে। বৈঠকে কাকে মেয়র পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটি নির্ধারণ করা হবে।’

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দলীয় মনোনয়ন বিতরণের প্রথম দিন মেয়র পদে মোট চারজন ফরম সংগ্রহ করেন। তারা হলেন– মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সাবেক মন্ত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তার ছেলে ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

১১ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন সংগ্রহ করেন তিনজন। তারা হলেন– বর্তমান মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইউনুছ।

১২ ফেব্রুয়ারি ফরম সংগ্রহ করেন পাঁচজন। তারা হলেন– সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান নগর আওয়ামী লীগের আবদুচ ছালাম, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, ইনসান আলী ও সাবেক সংসদ সদস্য মইনুদ্দীন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান।

১৩ ফেব্রুয়ারি ফরম সংগ্রহ করেন দুজন। তারা হলেন– সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা একেএম বেলায়েত হোসেন।

সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি চরজন ফরম সংগ্রহ করেন। তারা হলেন– চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম, সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীনের ভাই এরশাদুল আমীন, লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার মো. মনোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপক কুমার।

দলীয় মনোনয়ন ফরম নেওয়া প্রার্থীদের সবাই বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। দলীয় মনোনয়ন ভাগিয়ে নিতে তারা নিজ নিজ বলয়ে চেষ্টা তদবির-লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত আগ্রহী সবাই মনোনয়ন লাভে আশাবাদী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণত পরীক্ষিত ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা এবং ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারগুলোকে মূল্যায়ন করে থাকেন বলে জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী। এসব দিক থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ আট জন।  

শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে থাকা বাকি সাত নেতা হলেন– মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম, বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী জহুর আহমেদ চৌধুরীর ছেলে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু।

ঢাকায় প্রার্থীদের সঙ্গে থাকা একাধিক দলীয় নেতাকর্মী জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের রাজনীতিতে জহুর আহমদ চৌধুরীর অনেক অবদান থাকলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী সময়ে এই পরিবারটি আর সেভাবে মূল্যায়িত হয়নি। আ জ ম নাছির উদ্দিন যদি কোনও কারণে মনোনয়ন না পান সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জহুর আহমদ চৌধুরীর পারিবারিক উত্তরাধিকারকে নিয়ে বিশেষভাবে ভাবছেন বলে আভাস রয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, রাজপথের সক্রিয় ভূমিকা ও অতীতে তেমনভাবে মূল্যায়িত না হওয়ার বিষয় পুঁজি করে শেষদিন পর্যন্ত লড়াইয়ে আছেন খোরশেদ আলম সুজন। অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান থাকাকালে বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ নিয়ে দলের সুনজরে আছেন সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।