দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শহীদ জোহার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাবি প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগ, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতি সংগঠন।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে ‘জোহা স্মারক’ বক্তৃতা আয়োজন করে রসায়ন বিভাগ। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে স্মারক বক্তা ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন, উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী মো. জাকারিয়া প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘ড. জোহা ছাত্রদের জন্য নিজের জীবন দিয়ে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি সব শিক্ষকদের কাছে এক আদর্শ। তার শাহাদাতে মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান আরও বেগবান হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় দিবসটিকে এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমরা চাই অনতিবিলম্বে দিবসটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক।’
এদিকে, ১৮ ফেব্রুয়ারিকে শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভায় তোলার আশ্বাস দিয়েছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। ড. জোহার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আজকের এই দিনটি জাতীয়ভাবে শিক্ষক দিবস ঘোষণা দাবি জানানো হচ্ছে। এটি নিয়ে পার্লামেন্টে কথা হয়েছে, কিন্তু আজও স্বীকৃতি মেলেনি। আমরা চাই, এই দিনটিকে জাতীয় শিক্ষা ও শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক।’
দিনটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে শহীদ জোহা চত্বরের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া একই দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টায় পরিবহন মার্কেটের আমতলায় সংবাদ সম্মেলন করেন রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবার থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেবেন তারা। এ সময় ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহাব্বত হোসেন মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও দিবসটিকে সামনে রেখে পৃথক বইমেলার আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ ফাউন্ডেশন ও সায়েন্স ক্লাব। বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।