রাজধানীর দিলু রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) মারা গেলেন ওই পরিবারটির শেষ সদস্য শহিদুল কিরমানি রনি (৪২)। এদিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়ে তাকে। এ ঘটনায় তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটনা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে ছেলে, ছেলের বউ ও একমাত্র নাতিকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ শহিদুলের বাবা-মা। তাদের মৃত্যু সইতে পারছেন না গ্রামের বাড়িতে স্বজনরা। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর দিলু রোডের একটি বাসায় এই আগুনের ঘটনায় মারা যান পাঁচ জন। চাকরির সূত্রে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৭) ও শিশুসন্তান রুশদীকে নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন শহিদুল।
তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ইটনা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে একনজর দেখতে ভিড় জমান এলাকাবাসী। শোকার্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেন তারা।
নিহত শহিদুলের ফুফাতো বোন শরিফা বলেন, ‘আমার ভাই ও তার পরিবারটার এভাবে আগুনে শেষ হয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করেন।’
এ বিষয়ে বাঘাব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তরুণ মৃধা বলেন, ‘মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবার অকালে শেষ হয়ে গেল। তাদের মৃত্যুতে পুরো ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে একই পরিবারের তিনটি কবর কেউ মেনে নিতে পারছেন না। আমরা ওই পরিবারকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’