প্রতিনিধি সম্মেলনে মহানগর যুবলীগের নগণ্য উপস্থিতিতে হতাশ নিখিল

যুবলীগের প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল ও অন্যরামঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা। চট্টগ্রামে আওয়ামী যুবলীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব শেষে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল। কোন ইউনিট থেকে কতজন নেতাকর্মী এসেছেন, সেটি পরখ করে দেখছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কারা কারা উপস্থিত আছেন, হাত তুলে দেখান।’ এ সময় মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন হাত তোলেন। এত কম উপস্থিতি দেখে নিখিল খুব হতাশ হয়ে বলেন, ‘এত কম কেন? সবাই আসেনি? ৪৩টি ওয়ার্ড থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আসলেও তো ৮৬ জন হয়।’

কেন্দ্রীয় এই নেতার প্রত্যাশা ছিল, সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। অন্য অনেক ইউনিট থেকে কম উপস্থিতি ছিল চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের।

এর আগে নিখিল তাকে মহানগর যুবলীগের ফাইল দিতে বলেন। কিন্তু মহানগর নেতারা ফাইল দিতে পারেননি। পরে তিনি নগর যুবলীগ নেতাদের মধ্য থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকাকে নগর যুবলীগের অবস্থা তুলে ধরার নির্দেশনা দেন। এ সময় দেলোয়ার হোসেন খোকা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের সামনে খুব বেশি কার্যক্রমের কথা তুলে ধরতে পারেননি।

ওয়ার্ড কমিটির সব সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না থাকার বিষয়ে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। এ কারণে তারা স্টেজের সামনে উপস্থিত ছিলেন না।’

তবে অনুষ্ঠানস্থলে নগর যুবলীগের খুব বেশি নেতাকর্মীকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশ গেটেও কাউকে দেখা যায়নি। কমিউনিটি সেন্টারের নিচতলায় প্রতিনিধি সভায় অংশ গ্রহণকারীদের জন্য খাওয়ারের আয়োজন ছিল। সেখানেও পাঁচ-ছয়জনের বেশি কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি।

২০১৩ সালের ১৩ জুলাই মহিউদ্দিন বাচ্চুকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। তিন মাসের জন্য গঠিত এই আহ্বায়ক কমিটির বয়স এখন সাড়ে ছয় বছর। এই সাড়ে ছয় বছরে নগরীর ৪৩ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে সম্মেলন হয়েছে। বাকি ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলনও করতে পারেনি মহানগর যুবলীগ। যে কারণে ঝিমিয়ে পড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম, গড়ে ওঠেনি নতুন নেতৃত্ব।

সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নগর যুবলীগের আহ্বায়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পদধারী তিন নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাই তারা সংগঠন নিয়ে ভাববার সময় পান না। এ কারণেই তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা থাকার পরও গত সাড়ে ছয় বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। হয়নি সম্মেলন।

ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা। ওয়ার্ড কমিটির নেতারা কোথায়? কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এমন প্রশ্নে দেলোয়ার হোসেন খোকা জানান, সবগুলো ওয়ার্ডে তারা কমিটি দিতে পারেননি। অনেক ওয়ার্ডে কমিটি নেই।

খোকার কাছ থেকে এই তথ্য শুনে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর দ্রুত সবকটি ওয়ার্ডে কমিটি দিয়ে দেবেন। যারা নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পর মহানগর যুবলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। মেয়দোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।’