রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সোলায়মান মিঞা ওই শিক্ষকের টিফিন ভাতা প্রত্যাহারের আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে আবেদনকারী শিক্ষক মনিবুল হক বসুনীয়া বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে টিফিন ভাতা প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। তবে আসলে কারণটা সম্মানের। আমাদের সহকারী শিক্ষকদের জন্য টিফিন ভাতা মাসিক বরাদ্দ মাত্র ২০০ টাকা যা দৈনিক হিসাবে মাত্র ৬ দশমিক ৬৬ টাকা। এই টাকা দিয়ে কোনও মানুষের টিফিন হতে পারে না।’
ওই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, একজন শিক্ষক হিসেবে এই বরাদ্দ অসম্মানের। এই টাকা না হলেও আমি চলতে পারবো। তাই অনেকটা অভিমান করেই ভাতা প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেছি।’
অন্য শিক্ষকদের প্রতি একই আহ্বান জানাবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মনিবুল হক বসুনীয়া বলেন, ‘আমি আমার ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে টিফিন ভাতা প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। অন্য শিক্ষকরা করবেন কিনা তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জন্য যে টিফিন ভাতা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। ওই টাকা দিয়ে কোনও মানুষের টিফিন হতে পারে না। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছি। আমরা আশা করছি সরকার আমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন।’
জেলা শিক্ষা অফিসার শহীদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। শিক্ষকদের টিফিন ভাতা সরকার দিয়ে থাকেন। এ নিয়ে ওই শিক্ষকের অভিমান কিংবা কোনও দাবি থাকলে আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথায়থ নিয়েমে অবহিত করবো।’