করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বাংলাদেশ ও ভারতে যাত্রী চলাচল নিষিদ্ধ থাকার মাঝে শনিবার বেনাপোল চেকপোস্টে ৩ ঘণ্টায় ভারত থেকে দেশে ফিরেছে ১৪০০ যাত্রী, আর সেখানে গেছে ২৫০ জন। তবে বন্ধ ছিলো দিনাজপুর হিলি বন্দর ও মৌলভীবাজার বন্দর। স্বাভাবিক ছিলো বাণিজ্য কার্যক্রম।
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি যাত্রীদের ভারতে যাওয়া বন্ধ হলেও চালু রয়েছে দু’দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি বাণিজ্য। চিরচেনা বেনাপোল চেকপোস্ট প্রায় জনশুন্য। অন্যসময় প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার পাসপোর্টযাত্রী এই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া আসা করে।
যারা ১৩ মার্চের আগে ভারতে গিয়েছিল তারা ভারত থেকে ফিরতে শুরু করেছে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে। ৮ সদস্যের মেডিকেল টিম ভারতীয় ট্রাক চালক ও হেলপারদের থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করছেন। ১৭ জানুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ বিকেল পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার পাসপোর্ট যাত্রীর করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোন যাত্রীর করোনা সনাক্ত হয়নি।
ভারতের পেট্রাপোল অভিবাসন বিভাগের নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, ভুটান ও নেপালের ট্রানজিট ভিসাধারীরা ভারতে প্রবেশ করতে পারবে। প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত, অফিসিয়াল পাসপোর্ট, কূটনৈতিক ভিসা, ইউএন পাসপোর্ট, সার্ক ভিসাধারী, বিশেষ ভিসাধারী ছাড়া এই মুহূর্তে কেউ ভারতে যেতে পারবে না।
বন্দর দিয়ে দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যেসব যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার ব্যাপারে বা উৎসাহিত করার জন্য কোন নোটিশ বোর্ড/ব্যানার টাঙানো হয়নি। এখনও পর্যন্ত কাউকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়নি।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত বন্দর এলাকার কোথাওভারত ফেরত যাত্রীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার ব্যাপারে কোন সতর্কীকরণ নোটিশ দেখা যায়নি এবং এখন ও পর্যন্ত কাউকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়নি। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান,ভারত ফেরত দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার ব্যাপারে কোন নোটিশ টাঙানো হয়নি। তবে যাত্রীদের একটি করে লিফলেট ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র পূরণ করে তাদেরকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে যে করোনার উপস্থিতি আছে কিনা। এ জাতীয় কোন রোগী সনাক্ত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আইসোলেশনে রাখা হবে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ইমগ্রেশন সেন্টার দিয়ে বাংলাদেশি যাত্রীদের ভারতে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন সেন্টার। আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকছে। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের শুধু নিজ দেশে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে এখনো দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রয়েছে।
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে টেন্ডার প্রক্রিয়া (ইএক্সপি)কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে ভারতের হিলি কাস্টমস কতৃপক্ষ। তবে পুর্বের হওয়া টেন্ডারের বিপরীতে বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি করছেন কাস্টমস কতৃপক্ষ। এদিকে নতুন করে টেন্ডার না করায় কয়েকদিনের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার বন্ধের মতো আমদানি রফতানি বন্ধ হওয়ার আশংকা করছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।