খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের কোনও তথ্য বগুড়ার গোয়েন্দা সংস্থা বা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। কোনও প্রবাসী রিপোর্ট করলে বা তাদের সম্পর্কে কেউ অবগত করলেই তাদের সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন করছে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, ‘বিদেশফেরত সবার ওপর স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি করতে পারছে না। কেবল যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তাদের ওপর নিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মীরা নজরদারি করছেন। এরপরও লোকবল কম হওয়ায় তারা (প্রবাসী) কতটা নির্দেশ মনে চলছেন তা জানা সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ জেগে উঠেছে, তাই প্রবাসী কেউ স্বাস্থ্য বিভাগে রিপোর্ট না করে বাড়িতে আত্মগোপনে থাকতে পারবেন না।’
বগুড়ার ডিএসবির পুলিশ সুপার আবদুল জলিল জানান, প্রতিদিন কতজন প্রবাসী বাড়ি ফিরছেন তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। ঢাকার এসবি থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য দিলে তারা সেই প্রবাসীর ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করছেন।
এদিকে বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ার এক ব্যক্তি প্রায় ৯ বছর ইতালিতে থাকেন। তিনি গত ১৫ মার্চ দেশে ফেরার পর বাড়িতে আসেন। প্রতিবেশীদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে পড়ে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের মাঝে উত্তেজনা ও আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে তার বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন এসে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন করেন।
বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিসংখ্যানবিদ শাহারুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার নতুন করে ৩৩ জনসহ মোট ৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো। এর মধ্যে শিবগঞ্জে ১৭ জন, আদমদীঘীতে ১৫ জন, নন্দীগ্রামে ১৩ জন, সোনাতলায় ৯ জন, গাবতলীতে ছয় জন, বগুড়া সদরে পাঁচ জন, ধুনটে এক জন ও সারিয়াকান্দিতে এক জন।