জ্বর ও সর্দি-কাঁশিতে আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে না এসে প্রথমে টেলিফোনে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষের চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারবেন। জেলা সিভিল সার্জনরা হাসপাতালভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের মোবাইল নম্বরসমূহ প্রচারের ব্যবস্থা করবেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে খুলনা বিভাগীয় কমিটির সভা ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে করোনা প্রতিরোধের বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ও দোকান বাদে অস্থায়ী হাট বসা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া জনবহুল স্থানে যাওয়া বাদ দিতে সর্বসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে রবিবার (২২ মার্চ) সকালে তাঁর সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানাসহ বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি দফতরগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, জ্বর ও সর্দি-কাঁশি থাকা মানেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নয়। এরূপ পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অযথা ভিড় না করে প্রথমে টেলিফোনে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন মনে করলে স্বাস্থ্যবিভাগ রোগীর বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের নমুনা সংগ্রহ করবে। এছাড়া চায়ের দোকানে অযথা আড্ডা, অস্থায়ী হাট-বাজারে ঘোরাফেরা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। মসজিদের মাইকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসাধারণের করণীয় বিষয়ে নিয়মিত প্রচার চালাতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১ মার্চ হতে দেশে আসা বিদেশ ফেরতদের জেলাওয়ারি তালিকা ধরে শতভাগ হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে কাজ চলছে। সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিদেশে ফেরত দুই হাজার ৫৬ জনের মধ্যে ৭৩৪ জনকে শনাক্ত করে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদেরও অতি দ্রুত এর আওতায় আনা হবে।
এতে বলা হয়, সরকারের বিশেষ উদ্যোগে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা উপকরণসমূহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আতঙ্ক পরিহার করে সচেতন হলেই দুর্যোগ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
সর্দি-কাঁশির চিকিৎসার পরামর্শে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হটলাইন নম্বর
খুলনা জেলায় সর্দি-কাঁশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হাসপাতালে না এসে প্রথমে টেলিফোনে সিভিল সার্জন দফতরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের মোবাইল নম্বরসমূহে চিকিৎসা পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষের মোবাইল নম্বরসমূহ ০১৭৪০৩৩৩২২৮, ০১৭১০৩২৩৩৮৩, ০১৭১৮৮৬১০১৫, ০১৭৩১৭৯০৯৬৬, ০১৯৪০২৬০১৬২, ০১৬৭২৫৩৭৭৪৭, ০১৫৫৭৬৯৯২৮৮ এবং ০১৭৪৬৪৮২৩৯৩। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস রবিবার এই নম্বরগুলো চালু করেছে।