টেকনাফে বিদেশফেরতদের খোঁজে মাঠে নেমেছে প্রশাসন

বিদেশফেরতদের খোঁজ করা হচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফে হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকা বিদেশফেরতদের খোঁজে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি তালিকায় হিসাব অনুযায়ী শতাধিকের বেশি বিদেশফেরতের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সীমান্তের টেকনাফ আরও করোনা ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে অবৈধপথে ভারত ফেরত টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়ায় উৎকণ্ঠা বেড়েছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মাঝে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিদেশফেরতদের খোঁজে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. টিটু চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে একটি দল সাবরাং ইউনিয়ের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন বিদেশফেরত ব্যক্তির কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেন। একই দিন দুপুর থেকে টেকনাফ উপজেলায় ফার্মেসি ও নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্য ছাড়া সব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে বিদেশফেরতদের মধ্যে ৩৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশফেরত তালিকাভুক্ত অনেককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের খোঁজে মাঠে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘জনসমাগম না করতে মাইকিং করে সচেতনতা করা হচ্ছে। এতে সাড়া দিয়ে অনেকে মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। তবে ফার্মেসিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা রয়েছে।’ 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ‘করোনা রোধে একটি তালিকা নিয়ে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা তদারকি করছেন। এই ভাইরাস রোধে প্রতিদিন সচেতনতামূলক প্রচারণা ও মাইকিং চলছে। তবু আমাদের অনুরোধ, নিজের এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না। তাছাড়া যেসব স্বাস্থ্যকর্মী করোনা রোধে মাঠে কাজ করছেন তারাও ঝুঁকিমুক্ত নন।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফার্মেসি ও নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যের দোকান ছাড়া বাকি সব মার্কেটসহ দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এতে জনগণ সাড়া দিয়েছেন। মূলত জনসচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি করোনামুক্ত থাকতে জনগণকে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ’