ভোমরা দিয়ে এসেছে আরও সোয়া ২ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করা পণ্যবাহী ট্রাক

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার (২৩ মার্চ) ১০৯টি ট্রাকে করে দেশে ঢুকেছে ২ হাজার ২৭৫ মেট্রিক টন ভারতীয় পেঁয়াজ। রবিবার ভারত সরকারের জনতা কারফিউয়ের কারণে বন্দরের কাজ বন্ধ থাকলেও এর আগের দিন শনিবার ঢুকেছে আরও  ১ হাজার ৭৬৬ টন পেঁয়াজ।

সাতক্ষীরা ভোমরা শুল্ক স্টেশন কাস্টমসের এক্সাইজ ও ভ্যাট শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম সোমবার (২৩ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার ভারত থেকে ৩৬২টি ট্রাকে করে বিভিন্ন মালামাল আমদানি হয়েছে। আর বাংলাদেশ থেকে ১৫টি ট্রাকে করে বিভিন্ন মালামাল রফতানি হয়েছে। এদিন সকাল থেকে কর্মব্যস্ত ছিল ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সবচেয়ে বড় পয়েন্ট সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর।

কোলকাতাসহ ভারতের কয়েকটি পৌরসভায় ২৪ থেকে ২৭ মার্চ এই তিনদিন লকডাউন করার প্রভাব ভোমরা স্থলবন্দরে পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশঙ্কা আছে। তবে আমদানি-রফতানি বন্ধ হবে কিনা সে বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কোনও নির্দেশনা আসেনি।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, গতকাল রবিবার ভারত সরকার কর্তৃক জনতা কারফিউ ঘোষিত থাকার কারণে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কোনও মালামাল আমদানি রফতানি হয়নি। তবে আজ সকাল থেকে আমদানি- রফতানি আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। তবে করোনার কারণে আগের তুলনায় সকল পণ্যে আমদানি এবং রফতানি কিছুটা কমেছে।

ভোমরা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশে আটকে থাকা পাসপোর্ট যাত্রীর আসা-যাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও দু দেশেই নতুন করে কোনও পাসপোর্ট যাত্রীকে প্রবেশাধিকার না থাকায় যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সাধারণত এই বন্দর দিয়ে গড়ে ১১’শ পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করে। কিন্তু গতকাল রবিবার মাত্র ২৬ জন যাত্রী যাতায়াত করেছে।

তিনি আরো বলেন, গত (১৫ মার্চ) ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিন ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৮৮টি ট্রাকে করে ১হাজার ৯৩৮ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি হয়। এর পর থেকে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক আছে।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের কারণে ভারত সরকার বিশ্বব্যাপী ভিসা স্থগিত করার পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত শনিবার থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে প্রবেশ এক মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উভয় দেশের নাগরিক যারা এ ঘোষণার আগেই অন্য দেশে ঢুকেছেন তাদের নিজ দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হবে না।