বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহম্মেদ জানান, লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এখন ফেরিতে হাজার হাজার যাত্রী পার করতে হচ্ছে। যাত্রীরা কেউ কথা শুনছেন না। অনেক সময় ফেরিতে উঠতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। যদি লঞ্চ বন্ধ করা না হতো, তাহলে সীমিত ফেরি দিয়ে জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হতো। তিনি আরও জানান, শিমুলিয়া ঘাটে প্রায় তিন শতাধিক গাড়ি আছে। এখন মনে হচ্ছে সারা রাতই ফেরি চালাতে হবে।
তবে মাওয়ার ট্রাফিক পরিদর্শক মো. হেলালউদ্দিন বলেন, ঘাটে প্রায় পাঁচশ’ যান আটকা আছে। লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী ফেরিতে পারাপার হওয়ায় জটলা বাড়ছে। আটকে পড়া যানবাহনের বেশিরভাগই ছোট গাড়ি এবং পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান।
এদিকে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে এ রুটের মোট ৮৭টি লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটের লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাবিরুল ইসলাম খান জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমে সব ধরনের ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করার কথা ছিল। তবে, পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিসির নির্দেশনা আসে ফেরি চালাতে। তবে, অন্য নৌযান বন্ধ থাকায় ফেরিতে করে হাজারো যাত্রী পার হচ্ছেন। এতে যানবাহন পারাপারে জটিলতা বাড়ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা এরিয়া অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই তথ্য জানান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স পার করার স্বার্থে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দুপুরের দিকে নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল এই ফেরি সেক্টর লকডাউনের আওতায় থাকবে। পরে বিকালের দিকে বিশেষ বৈঠক করে ফেরি সেক্টর লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফেরি চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ