বাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আবারও উদ্বেগ অ্যামনেস্টির

অ্যামনেস্টিবাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আবারও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি। বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ডকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের নিষ্ঠুর ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মৃত্যুদণ্ড ন্যায় বিচারের সমকক্ষ নয়।
২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের আদালতে অন্তত ৫০টি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যের প্রাণদণ্ডের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার অপরিহার্য। এ ধরনের শাস্তি বেঁচে থাকার অধিকারের লঙ্ঘন; যা প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার।
মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে এমন একটা শাস্তি যা অপরিবর্তনীয়। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় ত্রুটি সংশোধনের কোনও সুযোগ নেই; যা ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন। বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অসমীচীন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রতিবছর অনেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিও নির্দোষ হিসেবে মুক্তি পান।
ঐশী রহমানের মামলায় নিজ মা-বাবাকে খুনের দায়ে চলতি বছরের ১২ নভেম্বর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি কিশোরী ছিলেন। তখন তার বয়স যদি ১৮-এর বেশি হতো এবং তার আপিলও ব্যর্থ হতো সেক্ষেত্রে তারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো।

ঐশী রহমানের মামলার রায়ে বিচারক বলেছিলেন, এ ধরনের অপরাধীকে যদি মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে কম সাজা দেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ বাড়তেই থাকবে।

বিচারকের এই বক্তব্য কিন্তু প্রামাণ্য নয়। কারণ কোনও সমীক্ষায় এমনটা দেখা যায়নি যে, এক্ষেত্রে অন্য শাস্তির চেয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে অপাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

১৯৭৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কাজ করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড বন্ধের প্রবণতা জোরদার হচ্ছে। দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি দেশের আইনি কাঠামোতে মৃত্যুদণ্ড রহিত করা হয়েছে। চলতি বছর ফিজি, মাদাগাস্কার ও সুরিনামে যেকোনও ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪১টি দেশের মধ্যে ১৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ড রহিত করা হয়েছে। ১০২তম দেশ হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড রহিত করতে যাচ্ছে মঙ্গোলিয়া।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে অন্তত ১৪১ জন পুরুষ ও একজন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০১৫ সালে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে।

/এমপি/এএইচ/