অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় এসে এসব ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে অবাধে হাট-বাজার করছেন, স্বজনদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন। ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার চরম আতঙ্ক ও ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে এলাকার মানুষ। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর ও বালুয়া মসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে নারায়ণগঞ্জ থেকে শত শত নারী-পুরুষ এসে অবাধে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বলেও কোনও কাজ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়ামাসিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘মিঠাপুকুরে যে হারে করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে মানুষজন আসছে এটা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ বিপদে পড়তে হবে। তারপরেও আমরা স্থানীয় গ্রাম পুলিশ দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষদের বাড়ি পর্যবেক্ষণ করছি। তাদের বাসার মধ্যে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরাও খবর পাচ্ছি করোনা আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে বেশ কিছু মানুষ তাদের বাড়িতে এসেছেন। এটা চরম উদ্বেগের বিষয়। কারণ তাদের অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে চাইছেন না। তবে পুলিশ এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরাও বাড়িতে গিয়ে তাদের বাসায় বাইরে বের না হবার আহ্বান জানাচ্ছেন।’
অপরদিকে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘গত দুদিনে রংপুরে হোম কোয়ারেন্টিনে দুই শ’রও বেশি মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন। এর বাইরেও অনেকে এসেছেন। তাদের আমরা সন্ধান করছি। এলাকাবাসীও আমাদের সহযোগিতা করছেন। আশা করি সবাইকেই আমরা হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনবো।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কাউনিয়াতে এমনি বেশ কিছু ব্যক্তি আক্রান্ত এলাকা থেকে এসেছেন। তাদের স্থানীয় গ্রাম পুলিশ বাসায় অবস্থান করতে বলায় এক গ্রাম পুলিশকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা সিরিয়াসলি নিয়েছি।’ যেহেতু তারা কথা শুনছে না সে কারণে স্থানীয় একটি স্কুলে তাদের রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।