মোবাইল চুরির অভিযোগে ৩ শিশু-কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন!

মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস সরদার

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল চুরির কথিত অপরাধে কোমরে রশি বেঁধে ৩ শিশু-কিশোরকে অমানিবক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত রবিবার দুপুরে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস সরদার ও তার সহযোগীরা পৌরসভার ভরপাশা এলাকায় ওই ৩ শিশু-কিশোরকে বেঁধে চরম নির্যাতন চালায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

শিশু-কিশোর নির্যাতনের ঘটনা জানার পরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। এর এক ঘণ্টার মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস সরদারসহ দুজনকে পুলিশ আটক করে।

জানা গেছে, গত রবিবার ভরপাশা এলাকার ইমরান সরদার নামে এক যুবকের একটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এ কারণে স্থানীয় ৩ শিশু-কিশোরকে চোর অপবাদ দিয়ে  ধরে এনে কোমরে রশি বেঁধে লাঠি দিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ইদ্রিস সরদারের বিরুদ্ধে। এ সময় তার সহযোগী মিজানসহ অন্যরাও ওই ৩ শিশু-কিশোরকে লাথি, কিল-ঘুষি দেয়। এতে এক কিশোরের একটি হাত ভেঙে যায়। এ ঘটনার পর চুরির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার নামে পুলিশ এবং সাংবাদিক ম্যানেজ করার কথা বলে দুই কিশোরের পরিবারের কাছ থেকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকাও আদায় করেন আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস।

এদিকে শিশু-কিশোর নির্যাতনের এই দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। মুহূর্তে নির্যাতনের ওই ভিডিও ভাইরাল হয়।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ সকালে দেখে তাৎক্ষণিক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস সরদার ও তার সহযোগী মিজানকে আটক করেছে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।