তিন সপ্তাহ বন্ধ তাঁত কারখানা, খাদ্য খুঁজছেন শ্রমিকরা

93374128_319033569066962_7187460206001913856_n

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশে পাবনার সাঁথিয়ায় বন্ধ রয়েছে সব ধরণের তাঁতের কারখানা। টানা ২২ দিন বন্ধ থাকার কারণে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁত শ্রমিকদের। এখন পর্যন্ত তারা পাননি সরকারি-বেসরকারি কোনও ত্রাণ সহায়তা। জানা যায়, হাট-বাজার বন্ধ থাাকায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না কারখানা মালিকরা। আগে থেকেই সংকটের মধ্যে চলছিল তাঁত ব্যবসা, তার ওপর করোনা মহামারিতে বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় আরও লোকসানে যাচ্ছে এই শিল্প। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হলেও ব্যাংকের ঋণের সুদ ঠিকই বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি সহযোগিতা চাচ্ছেন তাঁত ব্যবসায়ীরা।

তাঁত কারখানার মালিকেরা বলেন, 'এই অবস্থায় নিজেরাই চলতে পারছি না, শ্রমিকদের কী দেবো। কয়দিনই-বা চালানো যায়। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তবে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।'

সাঁথিয়া উপজেলার তাঁত সমৃদ্ধ পিপুলিয়া, শশদিয়া, ফকিরপাড়া, ছেচানিয়া, করমজা, ধুলাউড়ি, ঘুঘুদহ, তেতুঁলিয়া গ্রামে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যেসব তাঁত পল্লিতে খটখট শব্দে মুখরিত থাকার সময় এটা, সেখানে করোনার প্রভাবে তাঁতীপল্লিতে যেন নেমে এসেছে নিশ্চুপ নীরবতা। বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাঁত শ্রমিকরা।

সাঁথিয়ার প্রবীণ তাঁত শ্রমিক নজরুল ইসলাম নজু জানান, তিন সপ্তাহ কোনও কাজকর্ম নেই। মহাজন কাপড় বিক্রি না করলে টাকা দিতে পারবে না। ঘরে খাবার নেই, পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে পারছি না।

পিপুলিয়া গ্রামের হাফিজুল, আব্দুল্লাহ সহ কয়েকজন তাঁত শ্রমিক জানান- প্রতি সপ্তাহে যে টাকা বিল পেতাম, তা দিয়ে কোনোভাবে পরিবার নিয়ে কেটে যেত। তাঁত বন্ধ থাকায় আজ তিন সপ্তাহ কোনও বিল পাই না। ঘরেও খাবার নেই, বাজার নেই। কার কাছে বলবো?

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া বেসিক সেন্টারের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজার তাঁত রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করছেন এখানে। এখানকার বেশির ভাগ কারখানাগুলোই চলছে ব্যাংকের ঋণ নিয়ে।

তাঁত ব্যবসায়ী ও হালাল লুঙ্গির প্রোপাইটার আলহাজ ইন্তাজ আলী মল্লিক বলেন, 'আমার প্রায় শতাধিক তাঁত রয়েছে। এখানে নারী পুরুষ মিলে প্রায় আড়াইশ শ্রমিক কাজ করেন। আজ প্রায় এক মাস কারখানা বন্ধ রয়েছে। হাটবাজারও বন্ধ। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে ব্যাংক থেকে নেওয়া মোটা অংকের ঋণের কিস্তি দিতে পারছি না। এদিকে কারখানা বন্ধ থাকলেও সুদ তো বেড়েই চলছে। কীভাবে সুদের টাকা দেবো বুঝতে পারছি না।' এই সময়ের সুদ মওকুফের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

সাঁথিয়া বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার শ্রী জুয়েল চন্দ্র বলেন, 'তাঁতবোর্ড থেকে তালিকা চেয়েছে। আমরা সমিতির মাধ্যমে অসহায় তাঁত শ্রমিকের তালিকা তৈরি করছি। খুব দ্রুত এগুলো পাঠিয়ে দেবো বোর্ডে।'

সাঁথিয়ার পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম বলেন, 'কয়েকশ তাঁত শ্রমিককে সহায়তা দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে। খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিতরণ করবো।'

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহম্মেদ জানান, 'সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ এসেছিল, তা বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বণ্টন করা হচ্ছে। ত্রাণ অপর্যাপ্ত থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। আবার আসবে। এলে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে। তাঁত মালিকদের ঋণের সুদ মওকুফের জন্য সুপারিশ করা হবে।'