কৃষিবিভাগ বলছে, স্বল্প খরচেই ধান কাটার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন কৃষক। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে।
কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৫৪ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৫-২০দিন পর থেকেই কাটা শুরু হবে ধান। কিন্তু করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারি নির্দেশে মানুষ ঘরবন্দি থাকায় এ ধান কাটতে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকের ধান ঘরে তুলতে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যশোর কৃষিবিভাগ। ৬২টি হারভেস্টার ও রিপার মেশিন দিয়ে জেলার কৃষকদের ধান কেটে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কৃষিবিভাগের তত্ত্বাবধানে করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক এনে দিতেও তারা প্রস্তুত।
যশোর সদরের পুলেরহাট এলাকার কৃষক আশরাফ বলেন, ‘করোনার কারণে সরকার বাড়ি থেকে লোকজনকে বের হতে নিষেধ করেছে। মাঠে আমার পাঁচ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। আর দুই সপ্তাহ পরই ধান কাটার মতো উপযুক্ত হয়ে যাবে। এদিকে জোনেরও (শ্রমিক) সংকট। কী করবো- এ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। দুদিন আগে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তার কাছে থেকে শুনলাম, সরকারি খরচে ধান কেটে দেবে। খবরটা শুনে ভালো লাগছে।’
কথা হয় বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ঘোড়ানাথ গ্রামের কৃষক মলয় লস্করের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এবার আমি ছয় বিঘা জমিতে ধান লাগাইছি। কিন্তু করোনার কারণে এলাকায় ধান কাটার শ্রমিক পাবো বলে মনে হয় না। এ নিয়ে খুব দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি।’ সরকারের কৃষিবিভাগ মেশিন দিয়ে ধান কেটে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে-এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্লক সুপারভাইজার এখনও এ বিষয়ে কোনও খবর দেননি। যদি সরকার ধান কেটে দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে খুব ভালো হয়। আমরা একটু চিন্তামুক্ত হতে পারি।’
একই কথা বলেন ঝিকরগাছা উপজেলার দোসতিনা গ্রামের কৃষক আইয়ুব মোড়ল। তিনি চার বিঘা জমিতে এবার ধান চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের এমন উদ্যোগের কথা তিনি শোনেননি। সবাই যাতে এ সুবিধা পেতে পারে সেজন্য টিভি, রেডিও, মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে ব্যাপকভাবে প্রচারণার দাবি করেছেন তিনি।
হারভেস্টার মেশিন মালিক নূর মোহাম্মাদ বলেন, ‘কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের তেল খরচে কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার কথা বলেছেন। আমরা প্রস্তুত আছি। শুধু তেল খরচ না, এই মেশিন চালাতে একজন ড্রাইভার, মেশিনের কিছু পার্টসও নতুন লাগে। কৃষিবিভাগের কাছে আমরা সেই খরচটাও দিতে আবেদন করবো।’
যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওলিয়ার রহমান চাঁচড়া বলেন, ‘হার্ভেস্টারের মাধ্যমে ধান কেটে কৃষকের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বল্প খরচে কৃষকের এই সুবিধা দিতে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছি। কৃষকদের সমিতি বা নির্দিষ্ট কৃষকের মোবাইলফোনের মাধ্যমে তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের উপ-পরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘করোনার কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে কৃষিবিভাগ কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেবে। সে লক্ষ্যে জেলায় নতুন কম্বাইন হারভেস্টার (মিডিয়াম ও মিনিসহ) ৪৪টি এবং রিপার মেশিন ১৮মিলিয়ে ৬২টি মেশিন দিয়ে এই ধান কাটার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।‘
তিনি জানান, কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় এক থেকে দেড় একর জমির ধান কাটা, মাড়াই, পরিষ্কার ও প্যাকেটজাত সম্ভব। অন্যদিকে, রিপার মেশিনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৬৬ শতাংশ জমির ধান কাটা যাবে। এর ফলে খরচ সাশ্রয় হবে ৯২ ভাগ আর শ্রম ও সময়ের ব্যয় কমবে ৯০ ভাগের ওপর। এতে প্রায় দুই বিঘা জমির ধান কাটতে ১০০ টাকার মতো জ্বালানি তেল, ড্রাইভারের খরচসহ অন্যান্য মিলে ২৫০ টাকার মতো খরচ হয়।
এছাড়া বাইরের জেলা বিশেষ করে সাতক্ষীরা থেকে অনেক শ্রমিক যশোরে আসেন। প্রয়োজনে ওই জেলার সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেও শ্রমিক আনা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।