স্মারকলিপি না নিয়ে উল্টো ইউএনও সুমন বলেন, শুধুমাত্র অফিসিয়াল কাগজপত্র ছাড়া অন্য কোনও কাগজ জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠাতে পারবো না।
পরে সাংবাদিকরা বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি না দিতে পেরে ফেরত আসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এন এম নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী, সাংবাদিক মাহাবুব আলম, ইলিয়াস আলী, মাজেদুল ইসলাম হৃদয়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অন্য সংবাদকর্মীরা।
সাংবাদিক আল মামুন জীবন বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি দৈনিক অধিকারের জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকার বার্তা প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
সম্প্রতি সাংবাদিক মামুন করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ মুহূর্তে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গণপরিবহনে করে ঠাকুরগাঁওয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তবে বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। এর জের ধরে গত ১৫ এপ্রিল বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ধারণা, সম্প্রতি বালিয়াডাঙ্গীতে ৮৮৯ বস্তা ওএমএস’র চাল উদ্ধার নিয়ে সরেজমিনে রিপোর্ট করেছিলেন মামুন। সে জন্যও তিনি প্রশাসনের রোষানলে পড়তে পারেন।
এদিকে চাল চুরির ঘটনায় সংবাদ পরিবেশন করায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও জাগো নিউজের সম্পাদকসহ আরও দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মামুন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠলে ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে নিয়েছিলাম। এরপরেও ডিসি ও এসপির কাছে ক্ষমা চেয়েছি। এতকিছুর পরও আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো। মামলার পর পুলিশ ভাড়া বাসা, শ্বশুরবাড়িসহ নানা জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। আমি চার দিন ধরে পলাতক।
তিনি আরও বলেন, চার দিন হলো তিন বছরের শিশুটির মুখ দেখতে পাইনি। সত্য কথা বলতে গিয়ে আমাকে ডিজিটাল আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।