সরেজমিনে বিনাইল গ্রামে দেখা যায়, গ্রামটির প্রবেশপথেই রয়েছে মানবতার ঝুড়ির বিনামূল্যের খাদ্য পণ্যের পসরা। সেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা কর্মহীন ব্যক্তিসহ বয়স্ক, এতিম ও প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করছেন। সেই সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা জানায়, গত এক সপ্তাহ থেকে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও করছেন তারা। গ্রামের বিনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে চলছে মনবতার ঝুড়ির আয়োজনে বিনামূল্যে গ্রামবাসীদের চিকিৎসা সেবা। বিতরণ করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। বিরামপুরের ইমার উদ্দিন কমিউনিটি হসপিটালের সহযোগিতায় দেওয়া হচ্ছে এই চিকিৎসাসেবা।
গ্রামের বিধবা নুরজাহান বেওয়া (৭২) বলেন, ‘আট-দশ দিনোত থেকে প্যাটের ব্যথাত মরছিনো। হাতোত কোনও টাকা পয়সা নাই। ডাক্তারের কাছে যাবা পারুছুলুনা। গাঁওত বিনা পয়সায় ডাক্তার দেখে খুব উপকার হলো। ওরা বিনা পয়সায় ওষুধও দিছে। এতে করে হামার খুব উপকার হইছে।’
চিকিৎসক ডা. মুহাতারিমা সিফাত জানান, মানবতার ঝুড়ির আহ্বানে সমাজের প্রতি নিজ দায়িত্ববোধ থেকে তিনি বিনাইল গ্রামে চিকিৎসাসেবা দিতে এসেছেন। আর্থিক ও যাতায়াত সমস্যার কারণে দূরবর্তী এ গ্রামের অনেকেই বিশেষ করে নারীরা শহরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না। তাদের কথা ভেবেই তিনি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে গ্রামের সাধারণ মানুষদের সচেতন করতেও কাজ করছেন তিনি। এখানে উচ্চ রক্তচাপ, গাইনি, ডায়াবেটিস রোগীদের সরাসরি এবং করোনার উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।