রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর আহমেদ মাছুম কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল জানান, কেরানীগঞ্জ ফেরত ৬২ শ্রমিক নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার এবং কচাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত ১৪ এপ্রিল তারা কুড়িগ্রামে ফিরলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাদেরকে কচাকাটা উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। কিন্তু সেখানে বাইরে থেকে আসা লোকজনের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। আর কোয়ারেন্টিনে থাকা শ্রমিকরা পাহাড়ায় নিয়োজিত চৌকিদারদের নির্দেশনাও মানছিলেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এজন্য নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর আহমেদ মাছুমের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে তাদেরকে বাড়িতে বাকি ৬ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। এসময় তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর আহমেদ মাছুম জানান, ‘আসলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা ওই শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। একরকম জোর জবরদস্তি করে তাদের রাখতে হচ্ছিল। তারা পালিয়ে যাচ্ছিল আবার তাদের ধরে আনতে হচ্ছিল। তাছাড়া কোয়ারেন্টাইনের মূল শর্তও বিঘ্নিত হচ্ছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও জেলা প্রশাসকের সাথে পরামর্শক্রমে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার শর্তে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।’
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত ওই ৬২ ব্যক্তির শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা দেয়নি বলে জানতে পেরেছি। তাদেরকে বাকি কয়েকদিন হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অবশিষ্ট কয়েকদিন হোমকোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করলে আর কোনও ঝুঁকি থাকবে না। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৪ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ট্রাক যোগে কুড়িগ্রামে আসে ৬২ শ্রমিক। এসময় জেলা শহরের ধরলা সেতু প্রবেশ মুখে তাদের গতি রোধ করে পুলিশ। এরা সবাই নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার এবং কচাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি হিসেবে সবাইকে কচাকাটা উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখে স্থানীয় প্রশাসন।