বুধবার গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২০ জন নেতাকর্মী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়ার এক বিঘা জমির ধান কেটে দেন। তারা মাঠ থেকে ধান কেটে কৃষকের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়াও সব ধরনের সাহায্য করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কৃষক হামিদ মিয়া বলেন, ছাত্রলীগের এই সাহায্য তাদের জন্য অনেকটা আশার আলো দেখিয়েছে। সবাই যদি এভাবে অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে কৃষকেরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এমন কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে ছাত্রলীগের ২০ জন নেতাকর্মী মাওনা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী বাঁশবাড়ি গ্রামে গিয়ে কৃষক হামিদ মিয়ার এক বিঘা জমির ধান কেটে ওই কৃষকের বাড়ি পৌঁছে দেন।
এদিকে, একই দিনে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়া মাওনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলাম, ওয়াদুদ ও আল-আমীনের ফোন পেয়ে তাদের পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটে তাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল থেকে ১২০ জনের কর্মী নিয়ে উপজেলার ওই ইউনিয়নের কৃষকদের জমির ধান কাটেন তারা।
গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগময় মুহূর্তে মাঠের পাকা ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েন ওই কৃষকেরা। মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন কর্মীর মাধ্যমে কৃষকেরা জানান তাদের জমিতে পাকা ধান পড়ে আছে, কিন্তু কোনও শ্রমিক পাচ্ছেন না। ওই তিন জন কৃষকের সমস্যার কথা শুনে আমিসহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১২০ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে বুধবার সকাল ৭টায় ওই কৃষকদের পাকা ধানের জমিতে যাই। পরে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাঠের পাকা ধান কেটে দেই কৃষকের।’
এ বিষয়ে কৃষক নূরুল ইসলাম ও ওয়াদুদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ধান কাটার জন্য কোনও শ্রমিক পাচ্ছিলাম না। মাঠে পাকা ধানগুলো নষ্ট হওয়ার পথে। ধান নিয়ে বিপদে আছি শুনে গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া তাদের দলীয় কর্মীদের নিয়ে এসে আমাদের পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। তারা যদি ধান কেটে না দিতেন তাহলে এ ধানগুলো মাঠেই নষ্ট হয়ে যেত।
কৃষক আল-আমীন বলেন, ধান কাটার সময় সাধারণত ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা রোজে (দৈনিক ভিত্তিতে) শ্রমিক পাওয়া যেত। করোনাভাইরাসের কারণে এক হাজার টাকা দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পাকা ধান নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। আমাদের এ সংকটের কথা শুনে বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা ধান কেটে বাড়ি নিয়ে তা মাড়াই করে দিয়েছেন।