ফের লকডাউন ভেঙে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

94380106_3186977404687443_524050988672221184_n

বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে লকডাউন ভেঙে শনিবারও (২৫ এপ্রিল) রাস্তায় নেমে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এসময় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পৃথক স্থানে অবরোধ করেন তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম জানান, কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার হেচং বিডি লিমিটেড পোশাক কারখানাটি গত নভেম্বর মাসে লে-অফ ঘোষণা করে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বন্ধ ঘোষণার সময় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বেতন ভাতাসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধ করেনি তারা। গত কয়েকদিন আগে কারখানাটি শনিবার থেকে (২৫ এপ্রিল) চালু এবং আগামী ৭ মে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের তারিখ ঘোষণা করে গেটে নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার গেটে জড়ো হয়ে অবস্থান নিতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের পরও কারখানায় মালিকপক্ষের কাউকে না পেয়ে এবং কারখানার গেট খুলে না দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তারা তাদের আগের দুমাসের বকেয়াসহ পাওনাদি পরিশোধ এবং কারখানা চালু করার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর গিয়ে অবস্থান নেয় এবং সড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহন আটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে শ্রমিকরা কারখানার গেটে অবস্থান নেন। এসময় পুলিশ আলোচনার জন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে রবিবার সকালে আবারও কারাখানার গেটে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিকালে শ্রমিকরা কারখানা এলাকা ত্যাগ করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানান, শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার (লোহাই) এলাকার এটিএস সোয়েটার কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন ভাতাসহ তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে গেটে জড়ো হতে থাকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর গিয়ে অবস্থান নেয় তারা। পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মালিক পক্ষ আগামী ৭মে শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতনসহ পাওনাদি পরিশোধের ঘোষণা দিলে বিকালে শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে কারখানা এলাকা ত্যাগ করেন।

এছাড়াও একইদিন একই উপজেলার টেংরা কেওয়া বাজার এলাকার জামান ফ্যাশন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে গেটে বিক্ষোভ করেছে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন ভাতা শিগগিরই পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কারখানা এলাকা ত্যাগ করে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) সুশান্ত সরকার জানান, গত কয়েকদিন ধরে কিছু কারখানার শ্রমিক তাদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে আসছে। শনিবারও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।